ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬ , ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২৯-০৩-২০২৬ ০২:০৮:১৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৯-০৩-২০২৬ ০৪:৪৩:৪৩ অপরাহ্ন
​ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র
ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধে গত চার সপ্তাহে ৮৫০টিরও বেশি 'টমাহক' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন বাহিনী। বিপুল পরিমাণ এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে পেন্টাগনের অস্ত্র ভাণ্ডারে বড় ধরনের টান পড়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর কাছে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের পরিমাণ এখন ‘উদ্বেগজনকভাবে কম’। একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে বর্তমানে প্রায় দুই বছর সময় লাগে এবং প্রতিটির পেছনে খরচ হয় প্রায় ৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪২ কোটি টাকা)। গত বছরের মার্কিন বাজেটে মাত্র ৫৭টি টমাহক তৈরির বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। অথচ যুদ্ধের মাত্র এক মাসেই তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ফেলেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সিনিয়র উপদেষ্টা মার্ক কানসিয়ান জানান, যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে আনুমানিক ৩,১০০টি টমাহক ছিল। এর মধ্যে ৮৫০টিরও বেশি খরচ হয়ে যাওয়ায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য অন্য কোনো সংঘাতের জন্য বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে গণমাধ্যমের খবরকে উড়িয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পেন্টাগনের মুখপাত্র শিন পারনেল বলেন, “বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকে দুর্বল দেখানোর চেষ্টা করছে মিডিয়া। প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পালনের জন্য আমাদের কাছে যথেষ্ট সরঞ্জাম রয়েছে।” 

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও দাবি করেছেন যে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সফল করার জন্য পর্যাপ্ত গোলাবারুদ মজুত আছে। 

তবে পর্দার আড়ালে চিত্রটি ভিন্ন। পেন্টাগন প্রধান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত অস্ত্র সরবরাহের জন্য ব্যক্তিগতভাবে তাগিদ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে আনা অথবা দ্রুত নতুন করে তৈরির বিষয়ে আলোচনা করছেন।

১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ থেকে মার্কিন সামরিক অভিযানের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার এই টমাহক। এটি ১,০০০ মাইলেরও বেশি দূর থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হয় বলে এতে পাইলটদের জীবনের ঝুঁকি থাকে না। ইরানের মতো শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পন্ন দেশে হামলার জন্য এটিই আমেরিকার প্রধান ভরসা।

এক মাস পার হলেও ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সৌদি আরবে মোতায়েনকৃত মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে মার্কিন অভিযানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় টমাহক ফুরিয়ে যাওয়া পেন্টাগনের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ