পুরোনো জ্বালানিনির্ভর গাড়ির বদলে ইলেকট্রিক ভেহিকল
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৫-০৩-২০২৬ ০১:০৭:৫৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-০৩-২০২৬ ০১:০৭:৫৫ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
দেশে জ্বালানিসংকট মোকাবিলা ও জ্বালানি বাবদ খরচ কমাতে পুরোনো জ্বালানিনির্ভর গাড়ি তুলে দিয়ে ইলেকট্রিক ভেহিকল চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত আমদানি নীতিতে ইলেকট্রিক ভেহিকল ব্যবহারের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি বাড়ানোর জন্য ইলেকট্রিক যানের শুল্ক কমানোর বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভার কার্যবিবরণীতে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এ সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক ট্রাক ও বাস এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক ডাম্পার ও এক্সকাভেটর আমদানির ক্ষেত্রে সিডি ও এসডি এই দুই ধরনের আমদানি শুল্ক কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। গত মাসে অনুষ্ঠিত ওই সভার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমানে একটি জ্বালানিনির্ভর বাস ও ট্রাকের আমদানি শুল্ক যেখানে ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, সেখানে ইলেকট্রিক গাড়ির শুল্ক ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং ট্রাকের শুল্ক ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ইলেকট্রিক ভেহিকল (ইভি) বা বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানিতে শুল্কের হার জ্বালানিনির্ভর গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি, যা দেশের জ্বালানিসংকটে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি জ্বালানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খাতে খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বিষয়টি বিবেচনা করে শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক যানের শুল্ক কমানোর সুপারিশ করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। তবে এ বিষয়ে নির্বাচিত সরকারের নীতি কি হবে, তা পর্যালোচনার পর নতুন সুপারিশও যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্প উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, সরকার সম্পূর্ণ তৈরি গাড়ির আমদানির শুল্ক কমিয়ে ৩৭ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত আমদানি নীতি আদেশেও (২০২৫-২৮) পুরাতন যানবাহন প্রতিস্থাপনে ইলেকট্রিক ভেহিকেলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে এখনো জ্বালানিনির্ভর গাড়ির তুলনায় ইলেকট্রিক ভেহিকেলের শুল্কহার অনেক বেশি। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধেও কারণে সাম্প্রতিক যে জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি বিবেচনায় শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত যানের পাশাপাশি সব ধরনের ইলেকট্রিক ভেহিকেলের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
ইলেকট্রিক ভেহিকেল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সারা বিশ্বে এখন জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে। দেশে তেলের পাম্পগুলোতে তেল নিতে গাড়ির লাইন দীর্ঘ হচ্ছে এবং কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া রাজধানীতে পুরোনো লক্কড়ঝক্কড় গাড়িগুলো যেমন অত্যাধিক জ্বালানি ব্যবহার করছে, তেমনি কালো ধোঁয়া নিঃসরণের মাধ্যমে পরিবেশেরও ক্ষতি করছে। এ পরিস্থিতিতে ইলেকট্রিক ভেহিকেলের শুল্কহার কমানো হলে যেমন জ্বালানিসংকট কমবে, তেমনি এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আগ্রহী হবেন। উপরন্তু ইলেকট্রিক ভেহিকেলের কারণে দেশের জনগণ সাশ্রয়ী মূল্যে যানবাহন পাবে। নতুন রপ্তানি খাত তৈরি হবে এবং ব্যবহার, চার্জিং রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স