আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৪-০৩-২০২৬ ১০:৫৫:০৭ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২৪-০৩-২০২৬ ১২:২৮:২৩ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তবে মামলাগুলোর বিস্তারিত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাননি ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।
২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে থাকা মাসুদ উদ্দিন এক-এগারোর পট পরিবর্তনের পর গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন। ওই কমিটির প্রধান ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এম এ মতিন। তবে জরুরি অবস্থার ওই সময়ে পর্দার আড়ালে থেকে জেনারেল মাসুদই যৌথবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হত। সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বাধীন ওই বাহিনী শীর্ষ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করত এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দেওয়া হত।
২০০৬ সালের শেষ ভাগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর রাজনৈতিক মতানৈক্যের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে। জাতীয় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয় আন্দোলনরত দলগুলো। ওই অবস্থায় সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা-হানাহানির আপাত অবসান ঘটে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের জরুরি অবস্থা জারি করার মধ্যে দিয়ে। একইসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দেন তিনি। বাতিল করা হয় ২২ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন।
আলোচিত সেই ঘটনাপ্রবাহের শুরুর দিনটি পরিচিতি পায় ‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে। বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, ‘এক-এগারো’ না ঘটলে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারাই আবার ক্ষমতায় ফিরতেন। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন সেই ‘বন্দোবস্তই’ করছিলেন বলে অভিযোগ করেনও বিরোধীরাও।
বলা হয়, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি এবং ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সামরিক কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পরে চার তারকা জেনারেল হন) মইন উ আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি কার্যত সেই প্রভাবশালী কমিটি (গুরুতর অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি) পরিচালনা করতেন, যার নির্দেশে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষ কয়েকজন ব্যবসায়ীকেও আটক করা হয়।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও সে সময় গ্রেপ্তার করে দুর্নীতির মামলা দেওয়া হয়েছিল। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কথিত ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’র মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে পাল্টে ফেলে রাজনীতিকে নতুন চেহারা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।
সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওই সময়ই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ‘নাগরিক পার্টি’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ কয়েক মাসের তৎপরতায় নাগরিক সমাজের একটি অংশের সমর্থন পেলেও ইউনূস শেষ পর্যন্ত সেই রাজনৈতিক উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়ান।
সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দেড় বছরের মাথায় ২০০৮ সালের জুনে লেফটেনেন্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার করে পাঠানো হয়। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারও তাঁর চাকরির মেয়াদ তিন দফায় বৃদ্ধি করে। অবসর গ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত হন।
রাজনৈতিক জীবনেও সক্রিয় ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়নে তিনি ২০১৮ ও ২০২৪ সালে ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও পরে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্ষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন।
বাংলা স্কুপ /প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স