ঈদের দিনেও স্বজনের লাশের খোঁজে আফগানরা
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২১-০৩-২০২৬ ০৪:০৭:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২১-০৩-২০২৬ ০৪:০৭:৫৮ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছাপিয়ে এখন সেখানে কেবলই স্বজন হারানোদের হাহাকার।
তালেবান প্রশাসন দাবি করেছে, এই হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশই ছিল নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন সাধারণ মানুষ।
গত সোমবার রাতে কাবুলের উপকণ্ঠে ‘ওমিদ’ (আশা) নামক একটি সরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রমজানের তারাবিহ নামাজ শেষ করে রোগীরা যখন তাদের ডরমিটরিতে ফিরছিলেন, ঠিক তখনই আকাশ থেকে বোমা বর্ষণ করা হয়।
পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা জঙ্গি আস্তানা লক্ষ্য করে এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে। তবে জাতিসংঘ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, বোমার আঘাতে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।
ঈদের দিন সকালে কাবুলের প্রান্তে একটি পাহাড়ি কবরস্থানে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। সোহরাব ফকিরি নামের এক ব্যক্তি তার ভাই কাইসের কবরের সন্ধানে সেখানে হন্যে হয়ে ঘুরছেন।
কাইস পেশায় একজন দর্জি এবং ১০ বছর বয়সী এক সন্তানের জনক ছিলেন। সোহরাব বলেন, হামলার পর দুদিন আমি সব হাসপাতালে খুঁজেছি। পরে একটি ভিডিওতে দেখলাম অনেক মানুষকে একসাথে কবর দেওয়া হচ্ছে, সেখানেই ভাইকে চিনতে পারি।
কিন্তু এখানে এসে দেখছি কোনো কবরেই তার নাম নেই। ঈদের দিনে ভাইয়ের কবরের জন্য এভাবে হাহাকার করা যে কতটা কষ্টের, তা বলে বোঝানো যাবে না।
হামলায় বেঁচে যাওয়া ২৩ বছর বয়সী ওয়ালি নাজির মোহাম্মদ হাসপাতাল থেকে জানান, বিস্ফোরণের শব্দে তার ঘুম ভাঙে এবং তিনি দেখেন তার চারপাশের রোগীদের শরীরে আগুন জ্বলছে।
তিনি বলেন, দেয়াল ভেদ করে আসা গরম লোহার টুকরো (স্প্লিন্টার) আমার কোমর ও পা ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে। সরকার যদি এর প্রতিশোধ নিতে না পারে, তবে আমাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিক।
আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জুমা খান নায়েল জানান, হামলার পর সৃষ্ট আগুনের তীব্রতা এতো বেশি ছিল যে কাউকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অনেক রোগীর পরের দিনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল।
আফগানিস্তানে জাতিসংঘের ডেপুটি মিশন প্রধান জর্জেট গ্যাগনন জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল ও ইতালীয় এনজিও ‘ইমার্জেন্সি’ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
তারা আরও জানায়, এই নিরাময় কেন্দ্রে রোগীদের কার্পেন্ট্রি, ইলেকট্রিক্যাল কাজ ও সেলাইয়ের মতো কারিগরি শিক্ষা দিয়ে সমাজের মূল স্রোতে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স