ঢাকা , শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ , ৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​ইরানের তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল: এশিয়ার দেশগুলোর কেনার প্রস্তুতি

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২১-০৩-২০২৬ ০৪:০৫:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২১-০৩-২০২৬ ০৪:০৮:২৫ অপরাহ্ন
​ইরানের তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল: এশিয়ার দেশগুলোর কেনার প্রস্তুতি ছবি : সংগৃহীত
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ায় ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ আবারও ইরানি তেল কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তের পর বাজারে নতুন গতিশীলতা দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ভারতের অন্তত তিনটি তেল শোধনাগার ইতোমধ্যে ইরানি তেল কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তারা সরকারের নির্দেশনা এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।

এশিয়ার অন্যান্য বড় আমদানিকারকরাও ইরানি তেল কেনার আইনি ও কারিগরি দিক যাচাই করছে। তুলনামূলকভাবে কম মজুত থাকায় ভারত এ সুযোগ দ্রুত কাজে লাগাতে আগ্রহী হলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেয়নি দেশটির সরকার।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুক্রবার (২০ মার্চ) জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। মার্কিন অর্থ বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওএফএসি) জানায়, ২০ মার্চ বা তার আগে জাহাজে তোলা তেল ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করা হলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর এটি তৃতীয়বারের মতো এমন ছাড়।

জ্বালানি বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রপথে জাহাজে প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে এনার্জি আসপেক্টসের হিসাবে এই পরিমাণ ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেলের মধ্যে।

এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করে। তবে চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক শোধনাগার উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে, যা জ্বালানি সংকটকে আরও তীব্র করেছে।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের পর চীন ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হয়ে ওঠে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চীন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে।

তবে নতুন করে কেনাকাটার সুযোগ তৈরি হলেও অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি, পুরোনো ও অনিবন্ধিত জাহাজে তেল সংরক্ষণ এবং পূর্বের চুক্তিগত জটিলতা বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) সঙ্গে পূর্বের সরাসরি চুক্তির ক্ষেত্রে কিছু শর্ত এখনও কার্যকর রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংকিং ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগলেও দ্রুত তেল কেনাবেচা শুরু করতে আগ্রহী সব পক্ষই।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সাময়িক ছাড় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি আনতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে পরিস্থিতি নির্ভর করবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও নীতিগত সিদ্ধান্তের ওপর।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ