ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ নার্সারি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৮-০৩-২০২৬ ১২:৪৪:২০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-০৩-২০২৬ ১২:৪৪:২০ অপরাহ্ন
দুর্যোগ মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ নার্সারি সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বহু বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনভূমি সুন্দরবন। তবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় দেশের উপকূলীয় এলাকা থেকে উজাড় হচ্ছে গাছপালা ও বনভূমি। এজন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা ও খুলনার চারটি উপজেলায় গাছ ও বনভূমি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে দেশের অন্যতম সামাজিক সংস্থা ফ্রেন্ডশিপ।

বনভূমি বাড়াতে, উপকূলীয় এলাকার নদীর তীরে গড়ে তোলা হয়েছে মানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদের নার্সারি। এই ম্যানগ্রোভ নার্সারিতে উৎপাদিত হচ্ছে কেওড়া, কাঁকড়া, গেওয়ার মতো সুন্দরবনের উদ্ভিদ। এসব গাছের চারা ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রোপণ করা হচ্ছে উপকূলীয় এলাকায়।

ফ্রেন্ডশিপ ম্যানগ্রোভ প্লানটেশান কর্মসূচির জেষ্ঠ টেকনিক্যাল মানেজার মাইদুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার চারটি উপজেলার নদী তীরবর্তীতে ফ্রেন্ডশিপ নার্সারির মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বনায়ন কর্মসূচি। বর্তমানে ১৬টি নার্সারি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে ১৬ লাখ চারা। এই চারাগুলো রোপণ করা হচ্ছে ফ্রেন্ডশিপ বনায়ন কর্মসূচিতে। কয়েকটি এলাকা মিলে মোট ৩০৫ হেক্টর জায়গায় রোপণ করা হয়েছে ৯ লাখ ২১ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ম্যানগ্রোভ চারা।তিনি জানান, এই কর্মসূচির ফলে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে প্রায় ৮১ কিলোমিটার বেঁড়িবাধ। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে এমন বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।

শ্যামনগর উপজেলা পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ঝাঁপা গ্রামের বাসিন্দা ঠাকুরাণী গাইন জানান, নদীর তীরে সুন্দরবনের গাছপালা জন্মানোর কারণে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে ভাঙন কবলিত বেঁড়িবাধ। পাশাপাশি বেড়িবাঁধ ঘেঁষে সৃষ্টি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মিনি সুন্দরবন।একই ইউনিয়নের কোলা গ্রামের বাসিন্দা মারিয়াম খাতুন জানান, নদী তীরে বনভূমি থাকার কারণে উঁচু জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে ফসলি জমি এবং মিষ্টি পানির পুকুর। আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী জানান, ফ্রেন্ডশিপ ম্যানগ্রোভ বনায়নের কারণে কর্মসংস্থান এবং আয়ের পথ তৈরি হয়েছে উপকূলের বাসিন্দাদের। গাছপালার কারণে সংস্থান হচ্ছে গো-খাদ্যের। পশুপালন এবং হাঁস-মুরগি পালনে নতুন করে আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন উপকূলের মানুষ।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ