ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৬-০৩-২০২৬ ০৮:৪৮:১০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৩-২০২৬ ০৮:৪৮:১০ অপরাহ্ন
কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ​ছবি: সংগৃহীত
বিগত ১৫–১৬ বছরে দেশে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, তা এক বা পনেরো মাসে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য দেশবাসীর ধৈর্য, সময় ও সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুর সার্কিট হাউস মাঠে সুধী সমাবেশে ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি দিনাজপুরকে নিজের ‘নানিবাড়ি’ উল্লেখ করে আবেগময় স্মৃতিচারণও করেন।

তারেক রহমান বলেন, দিনাজপুর তাঁর কাছে বিশেষ আবেগের জায়গা। এই শহরের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ সাধারণত জিজ্ঞেস করে নানা বাড়ি কোথায়। কিন্তু দিনাজপুরের কথা মনে হলেই আমার কাছে নানি বাড়ির কথাটাই আগে মনে পড়ে। শহরের বালুবাড়ি ও ঘাসিপাড়ায় আমার নানা-নানির বাড়ির অনেক স্মৃতি রয়েছে।’

এলাকার প্রতি সেই টানেই, দায়িত্বের জায়গা থেকে দিনাজপুরের উন্নয়নে কাজ করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে জেলা প্রশাসক, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তাঁরা তুলে ধরেছেন এবং সরকার সেগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠনের পর থেকেই সেগুলোর বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমরা সরকার গঠন করার পর প্রায় এক মাসের মধ্যে মানুষের কাছে যে ওয়াদা করেছি, তার অনেকগুলোর কাজ শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দিনাজপুরের কাহারোল থেকে খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ৫ বছরে দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাব দূর হবে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক হবে এবং আর্সেনিক সমস্যা কমবে।

কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি আমরা সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে পূরণ করেছি। আগামী মাসের মধ্যে কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ পাইলট প্রজেক্ট শুরু হবে।

নারী ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এ প্রকল্প শুরু হয়েছে। পাইলট প্রজেক্টে দিনাজপুর-৬ আসনসহ দেশের ১৫টি জায়গায় মোট ৩৬ হাজার মানুষকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে। এটি ইউনিভার্সেল কার্ড, সব নারীই এটি পাবেন। তবে যাদের এটি প্রয়োজন নেই, তারা দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে নেবেন না বলে আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, সরকার গঠনের পর নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মসজিদ-মাদরাসার ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে দিনাজপুরে কৃষিসংক্রান্ত কলকারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঈদের পরে শিল্পপতি ও কারখানার মালিকদের সঙ্গে বসে কৃষিনির্ভর মিল-কারখানা তৈরি করে বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেব। এছাড়া লিচু, আলু, টমেটো ও আমের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের কাজও ধীরে ধীরে করা হবে।

দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ সবার জন্য এ সরকার কাজ করতে চায়। আপনারা সহযোগিতা দিলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে এ সরকার রাতদিন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে। 

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ