ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) জি টু জি প্রকল্পের কেনাকাটায় শতকোটি টাকা লুটপাটে জড়িতরা এবারও কি পার পেয়ে যাবে? জার্মানির পরিবর্তে চীন থেকে নিম্নমানের মালামাল এনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়া বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা এখনও কি দাপটের সঙ্গে পদ আঁকড়ে ধরে রাখতে সক্ষম হবেন?
এমন প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, চেয়ার বাঁচাতে মরিয়া হয়ে দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। তাঁদের পেছনে রয়েছে পতিত স্বৈরাচারের আমলে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়া বিদ্যুৎ খাতের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটই নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে অপকর্মের দোসর ওইসব দুর্নীতিবাজদের এতদিন টিকিয়ে রেখেছিল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।
বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এতদিন না মানলেও সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর চাপে পড়েছে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
জানা যায়, ইতিমধ্যেই জিটুজি প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন ও মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
গণমাধ্যমের তথ্যমতে, চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির ঘটনায় ফেঁসে যেতে পারেন সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান, নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খান, সাবেক প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমান, বর্তমান প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেছাসহ আরো বেশ কয়েকজন।
বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিতরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের জন্য ১৪০ সেট ১৩২ কেভি ক্যাবল এক্সেসরিজ (ক্রস বন্ডিং জয়েন্ট) আমদানির কথা ছিল জার্মানি থেকে। শর্ত ছিল, মালামালগুলো পোল্যান্ডের বন্দর থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। কিন্তু প্রকল্পের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিবিইএ কোম্পানি লিমিটেডের এক অশুভ আঁতাতের মাধ্যমে জার্মানির পরিবর্তে চীন থেকে নিম্নমানের মালামাল আমদানি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ক্যাবল এক্সেসরিজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও নথিপত্র জালিয়াতি করে তা জায়েজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। জার্মানি এবং চীনের পণ্যের মূল্যের বড় ধরনের পার্থক্যের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ১০০ কোটি টাকা পকেটে পুরেছে একটি বিশেষ চক্র।
বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সবুর হোসেনের দেয়া ১১০ পাতার এই তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানাতে বলা হয়।
ওই সময়ে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমদ কোন এক অজানা কারণে ওই নির্দেশনা আমলে নেননি। বর্তমানেও তিনি ডিপিডিসির এমডির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসায় সাংবাদিকদের প্রতি রীতিমত বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।
ডিপিডিসির প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওইসব দুর্নীতিবাজদের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
কেনাকাটায় অনিয়ম করে ১০০ কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা