ঢাকা , বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ , ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেল না পাকিস্তান, দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১১-০৩-২০২৬ ০৬:৪৭:১৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-০৩-২০২৬ ০৭:৫০:৩৬ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেল না পাকিস্তান, দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু ​ছবি: সংগৃহীত
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দাপুটে জয় পেল বাংলাদেশ। ব্যাটিং ও বোলিংয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্সে সিরিজ শুরু করল টাইগাররা।

বুধবার (১১ মার্চ) সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের দেওয়া মাত্র ১১৪ রানের জবাবে ব্যাট হাতে আক্রমণাত্মক শুরু করে টাইগাররা। বাংলাদেশের হয়ে ওপেনিংয়ে আসেন সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই ১০ রান সংগ্রহ করে নেয় টাইগাররা। দলীয় ২.৩ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ২৭ রান। তবে ওই ২৭ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত ৪ রানে শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে শামায়েল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইফ। সাইফ আউট হলে ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

শান্ত ও তানজিদের ব্যাটে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। প্রথম পাওয়ার প্লের ১০ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলে নেয় ৮১ রান। পাওয়ার প্লের পর দলীয় ১০৯ রানে শান্তর উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩৩ বলে ২৭ রানে ওয়াসিমের বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত।

পাকিস্তানের দেওয়া ছোট রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩২ বলেই ফিফটির দেখা পান টাইগার ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তামিমের দারুণ ফিফটিতে ভর করে ৮ উইকেট ও ২০৯ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় টাইগাররা।

এর আগে, টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মন্দ ছিল না পাকিস্তানের। ওপেনিংয়ে নেমে সাহেবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত প্রথম ৯ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৩৫ রান সংগ্রহ করেন।

তবে ইনিংসের দশম ওভারে বল হাতে এসেই দৃশ্যপট বদলে দেন নাহিদ রানা। নিজের প্রথম ওভারের প্রথম চার বলে ৬ রান দিলেও পঞ্চম বলটি ডট দেন এবং শেষ বলে উইকেট তুলে নেন।

ব্যক্তিগত ২৭ রানে (৩৮ বল) আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন সাহেবজাদা ফারহান। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৪১ রান।

প্রথম পাওয়ার প্লে শেষ হতেই আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন নাহিদ। টানা চার ওভারে আরও ৪টি উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের টপ ও মিডল অর্ডার একাই ধসিয়ে দেন এই পেসার। একে একে তার শিকারে পরিণত হন সাহেবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামায়েল হোসেন, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আঘা।

নাহিদ রানার পর বল হাতে ঘূর্ণি জাদু দেখান টাইগার অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। একে একে তুলে নেন তিন উইকেট। মিরাজের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন হুসাইন তালাত, আবদুল সামাদ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি।

খেলার শুরুর দিকে পাকিস্তানের স্কোরবোর্ডে কোনো উইকেট না হারিয়ে রান ছিল ৪১, সেখান থেকে মাত্র ৭৩ রান যোগ করতেই অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান।

একপর্যায়ে ১০০ রানের আগেই অলআউটের শঙ্কা জেগেছিল। তবে দশম উইকেটে ফাহিম আশরাফের ব্যাটে ভর করে সেই শঙ্কা কাটিয়ে ১০০ রান পার করে তারা। শেষ পর্যন্ত ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।

ব্যাট হাতে পাকিস্তানের হয়ে ৩৮ বলে ২৭ রান করেন সাহেবজাদা ফারহান, ২৮ বলে ১৮ রান করেন মাজ সাদাকাত এবং ৪৭ বলে ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ। বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে ৫টি উইকেট নেন নাহিদ রানা, ৩টি উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং ১টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।

এই জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ