জিটুজি প্রকল্প
কেনাকাটায় অনিয়ম করে ১০০ কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১০-০৩-২০২৬ ০৩:২৮:২১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১০-০৩-২০২৬ ০৫:২০:২৪ অপরাহ্ন
গ্রাফিক্স: বাংলা স্কুপ
নানা উপায়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ হরিলুট করা হয়েছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) জি টু জি প্রকল্পে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আলোচিত এই মেগা প্রকল্পে লুটপাটের সঙ্গে জড়িতরা এখনও রয়েছেন বহাল তবিয়তে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার দেওয়ার পরও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনা বিস্ময় ছড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। তবে বিপুল জনরায় নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটের বিচার নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য ১৪০ সেট ১৩২ কেভি ক্যাবল এক্সেসরিজ (ক্রস বন্ডিং জয়েন্ট) জার্মানি থেকে না এনে চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে রাষ্ট্রের ১০০ কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন কর্মকর্তারা। ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ের সূত্র বলছে, এ ঘটনায় প্রধান প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যন্ত তিন স্তরের ১২/১৩ জন কর্মকর্তা ফেঁসে যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে বাদ পড়বেন না তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তৎকালীন প্রকল্প পরিচালকও।
ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (ইএসপিএসএন) প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীন সরকারের মধ্যে সরাসরি (জিটুজি) চুক্তির ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে। ২০২৩ সালে এই প্রকল্পের মালামাল ক্রয়ে বিভাগীয় তদন্তে বড় ধরনের দুর্নীতি ধরা পড়ে- এমন খবর ২০২৫ সালের মার্চে গণমাধ্যমে আসে। অভিযোগ উঠে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানসহ কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বলা হয়, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিবিইএ কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিম্নমানের মালামাল আমদানি করা হয়েছে।
এমন অভিযোগ তদন্তে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. সবুর হোসেনকে দায়িত্ব দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং নথিপত্র পর্যালোচনার পর ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দেন।
পরবর্তীতে বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে ১১০ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানাতে বলা হয়। ওই সময়ে ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা অনুবিভাগ) নূর আহমদ। ডিপিডিসি সূত্র বলছে, জিটুজির একটি প্রভাবশালী চক্র দুর্নীতির বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরীয়া হয়ে ওঠে। ওই চক্রটি ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ম্যানেজ করে ফেলায় তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনাকে পাশ কাটিয়ে বেমালুম চেপে যান।
এ ঘটনায় সংস্থাটির সৎ প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন। তাঁরা বলছেন, আমরা যারা বিভিন্ন ডিভিশনে কর্মরত রয়েছি, সেখানে গ্রাহকসেবা বিন্দুমাত্র বিঘ্নিত হলে আমাদের বিরুদ্ধে নেমে আসে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। অথচ ডিপিডিসির বিভিন্ন প্রজেক্টের কিছু অসাধু প্রকৌশলী ও সংস্থাটির কতিপয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেও থেকে যাচ্ছেন ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, প্রকল্পের বিভিন্ন মালামালের সাথে ১৪০ সেট ১৩২ কেভি ক্যাবল এক্সেসরিজ (ক্রস বন্ডিং জয়েন্ট) আমদানির জন্য ২২তম, ৪৩তম ও ৪৫তম শিপমেন্ট ব্যবহার করা হয়। জার্মানিতে তৈরি এই মালামালগুলো পোলান্ডের বন্দর থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা। ২২তম ও ৪৩তম শিপমেন্টের মাধ্যমে আসা ৭১ সেট ক্যাবল এক্সেসরিজ প্রকল্প কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে বিল পরিশোধ করে দেয়। কিন্তু ৪৫তম শিপমেন্টে আসা বাকি ৬৯ সেট ক্যাবল এক্সেসরিজ, যা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওয়ারহাউজে রাখা ছিল- তা আর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেনি। বিভাগীয় তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয় যে, এই ৬৯ সেট ইউরোপের পরিবর্তে চীনে প্যাকিং হয়েছে এবং চীনের সাংহাই বন্দর থেকে বাংলাদেশে এসেছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিবিইএ'র কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় প্রকল্প দপ্তর থেকে। কিন্তু টিবিইএ যে ব্যাখ্যা দেয়, তাতে সন্তুষ্ট হননি প্রকল্প পরিচালক। তিনি প্রকল্প পরামর্শকের মতামত জানতে চান। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ৫টি প্রোডাকশন অর্ডারের আওতায় মোট ১৪০ সেট মালামাল সঠিকভাবে মিলিয়ে গ্রহণ করার সুপারিশ প্রদান করে। কিন্তু বিভাগীয় তদন্ত কমিটি এই সুপারিশ যৌক্তিক মনে করেনি, কারণ ততদিনে ২২তম ও ৪৩তম শিপমেন্টে আসা মালামালের বেশিরভাগই ব্যবহার হয়ে গিয়েছিল। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের এহেন ভূমিকাকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার বহির্প্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবেদনে।
এই প্রেক্ষিতে ৪৫তম শিপমেন্টের মালামাল গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে প্রধান প্রকৌশলী (উন্নয়ন) তারিকুল হককে আহবায়ক করে ৭ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (গ্রিড) তপন কুমার মন্ডল, ক্যাবল ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজাদুল হক ফারুকী, প্রকিউরমেন্ট দপ্তরের আশিকুর রহমান ও অর্থবিভাগের জিএম এ বি এম ফিরোজ। কমিটি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে মতামত দেয় যে- চুক্তির ব্যতয় ঘটিয়ে মালামালসমূহ পোল্যান্ড থেকে সরাসরি বাংলাদেশে শিপমেন্ট না করে চায়নাতে শিপমেন্ট করা হয় এবং পরবর্তীতে চায়না থেকে নতুন করে প্যাকিং ও শিপমেন্ট করার ফলে ১৩২ কেভি ক্যাবল এক্সেসরিজ সেটের এক বা একাধিক কমপোনেন্ট চায়নাতে পরিবর্তন হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই ক্যাবল এক্সেসরিজ সেটসমূহের কান্ট্রি অব অরিজিন জার্মানি হিসেবে নিশ্চিত হওয়া যায় না বিধায় ৪৫তম শিপমেন্টের ক্যাবল এক্সেসরিজ সেটসমূহ গ্রহণ করা যায় না।
মালামাল চায়নায় পরিবর্তনের আশংকা তদন্তকালে খুবই যুক্তিসংগত প্রতীয়মান হয়েছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই অনিয়ম নিয়ে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে। এই কমিটির ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করে বিদ্যুৎ বিভাগ। কমিটি প্রধান নিয়ন্ত্রকের (আমদানি ও রপ্তানি) ইস্যু করা ইমপোর্ট পারমিটে পোর্ট অফ শিপমেন্ট হিসেবে চীনের সাংহাই বন্দরের উল্লেখ থাকায় ৪৫তম ব্যাচের ৬৯ সেট মালামাল গ্রহণের সুপারিশ করেছিল।পাশাপাশি চুক্তির অতিরিক্ত আরো ৫ বছর রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি গ্রহণের প্রস্তাব করেছিল।
পরবর্তীতে প্রকল্প দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তারিকুন ইসলাম টিটু স্বপ্রণোদিত হয়ে ৭ সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন পাশ কাটিয়ে মালামাল গ্রহণ করা যায় কি না- এমন নোট উপস্থাপন করেন। প্রধান প্রকৌশলী মুর্তজা কামরুল আলম ও এইচআর দপ্তরের ডিজিএম কামরুন নাহার খানম পুনরায় যাচাই কমিটি গঠনের প্রস্তাব সমর্থন করে প্রকল্প পরিচালক আবদুল্লাহ নোমান বরাবর নথি প্রেরণ করেন। আবদুল্লাহ নোমানের প্রস্তাব করা যাচাই কমিটি নির্বাহী পরিচালক (অর্থ)-এর মতামতের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তা অনুমোদন করেন। এই কমিটি ৪৫তম শিপমেন্টের ৬৯ সেট ক্যাবল এক্সেসরিজ গ্রহণের সুপারিশ করে, যা ডিপিডিসির ৩৫৫তম বোর্ডসভায় গৃহীত হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চতুরতার সঙ্গে অন্যায়ভাবে জার্মানির পরিবর্তে চীন থেকে মালামাল শিপমেন্ট করেছে এবং মোরশেদ আলম খান চুক্তির অতিরিক্ত আরো ৫ বছর রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি গ্রহণের প্রস্তাব করে তা জায়েজ করার পথ তৈরি করে দিয়েছেন। এতে মালামালের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে না অর্থ্যাৎ রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি বাড়িয়ে দিলেই চীনের মালামাল জার্মানির অনুরূপ মানের হয়ে যাবে না।
মূলত, মো. তারিকুন ইসলাম টিটুর নথি এবং মোরশেদ আলম খানের অতিরিক্ত ৫ বছর রিপ্লেসমেন্ট ওয়ারেন্টি গ্রহণের প্রস্তাব ৪৫তম শিপমেন্টের মালামাল গ্রহণের পথ জায়েজ করে দেয়।
নথি ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগ নিশ্চিত হয়েছে যে, বিল পরিশোধ করা ২২তম ও ৪৩তম ব্যাচের মালামালও জার্মানির পরিবর্তে চীন থেকে শিপমেন্ট করা হয়েছে। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, জার্মানিতে উৎপাদিত পণ্য চীনে উৎপাদিত পণ্যের চেয়ে ২০% থেকে ৩০% মূল্য বেশি। এক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক, তাঁর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারের মধ্যে এই অর্থ ভাগাভাগি হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে জানা যায়, ইতিমধ্যেই জিটুজি প্রকল্পের দুর্নীতির তদন্ত প্রতিবেদন ও মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
ডিপিডিসি সূত্র জানায়, তদন্ত প্রতিবেদনে মালামাল ক্রয় ও শিপমেন্টের সঙ্গে জড়িতদের দায়ী করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান, নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খান, সাবেক প্রকল্প পরিচালক মাহবুবুর রহমান, বর্তমান প্রকল্প পরিচালক ফজিলাতুন্নেছা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মশিয়ার রহমান জোয়ার্দ্দার, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তারিকুন ইসলাম টিটু, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজিবুল হাদী, নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াজেদ, জিটুজির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী আবির চৌধুরীসহ আরো কয়েকজনের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।
ডিপিডিসির সাবেক এক নির্বাহী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুধু এই ঘটনাই নয়। জিটুজি প্রকল্পের কেনাকাটায় এরকম দুর্নীতির ঘটনা অজস্র। সাবেক এমডি বিকাশ দেওয়ানের ছত্রছায়ায় ইউরোপের পরিবর্তে থাইল্যান্ড থেকেও ৩০০ কোটি টাকার ক্যাবল কেনা হয়েছিল। যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন প্রকল্পের গুটিকয়েক কর্মকর্তা। এখানেও রাষ্ট্রীয় অর্থ নয়ছয়ের পাশাপাশি নিম্নমানের মালামাল গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি এখনও তদন্তের আওতায় আসেনি।
ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) এবং নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন)-এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ হায়দার আলী বাংলাস্কুপকে সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে বলেন, বিষয়টি নিয়ে ডিপিডিসির পরিচালনা পর্ষদে আলোচনা হয়েছে। তবে বোর্ড এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
ডিপিডিসির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও সাবেক সচিব মো. হামিদুর রহমান খান সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় বাংলা স্কুপকে মুঠোফোনে বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি আমার জানা নেই। আর এটা আমার দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে না। এগুলো দেখবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এ বিষয়ে তিনি (ব্যবস্থাপনা পরিচালক) বোর্ডকে এখন পর্যন্ত কিছু জানাননি বলে দাবি করেন হামিদুর রহমান খান।
যদিও ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) বাংলাস্কুপকে সোমবার দুপুরে জানিয়েছিলেন, জিটুজি প্রকল্পের অনিয়ম সংক্রান্ত বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে ডিপিডিসির পরিচালনা পর্ষদে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোমবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ও ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা নূর আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন বাংলাস্কুপের প্রতিবেদক। এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোন তদন্ত প্রতিবেদনে কী এসেছে, কেন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি- তা কি আপনাদের (সাংবাদিক) দেখার কথা! আর আমি তো তখন দায়িত্বেই ছিলাম না। আমি এসেছি দুদিন হলো!
কিন্তু নথি বলছে ভিন্ন কথা। বিদ্যুৎ বিভাগের তদন্ত প্রতিবেদন ও এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো হয় ২০২৫ সালে ৪ সেপ্টেম্বর। ওই সময়কালেও নূর আহমদই ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলা স্কুপ/বিশেষ প্রতিবেদক/এইচবি/একেএস/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স