চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী ১৪ জাহাজ; অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা পাবে
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৯-০৩-২০২৬ ০৯:০৩:৪৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৯-০৩-২০২৬ ০৯:০৪:১৯ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম বন্দরে অপেক্ষমাণ জাহাজ | ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে এবং আগমনের পথে রয়েছে মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ। জ্বালানি মজুদ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বন্দরের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা পাঁচটি এলএনজি ও দু’টি এলপিজি বহনকারী জাহাজসহ মোট ১৪টি জাহাজ বর্তমানে বহির্নোঙরে ও পথে রয়েছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজও নিয়মিত আসছে।
সোমবার (৯ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘রোববার বিকেলে বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং বিষয়ক এক সমন্বয় সভা হয়েছে।’
সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ করা হবে এবং জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা প্রদান করা হবে।
সভায় বন্দরের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিপিসি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, ওমেরা ফুয়েল লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, বাংলাদেশ ওশানগোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন।
বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে জানিয়ে বন্দর সচিব বলেন, ‘বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে জাহাজগুলোর ধারাবাহিক এই আগমনের ফলে বন্দরে কোনো জট নেই এবং দেশের সাপ্লাই চেইন সুশৃঙ্খল রয়েছে।’
সমন্বয় সভায় জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দরে আগত জাহাজগুলোর জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া হওয়ায় বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে তুলনামূলক কম।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর দ্রুত বার্থিং নিশ্চিত করার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।
সভায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা জানান, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুত সন্তোষজনক এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে নৌ-বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের চাহিদা পূরণে কোনো সংকট নেই।
বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও নিশ্চিত করেছে, বন্দরের সার্বিক অপারেশনাল কার্যক্রম ও লজিস্টিক সাপোর্ট পূর্বের মতোই নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে। বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স