যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চলছে
'জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে ক্যাম্প বসানো হবে'
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৯-০৩-২০২৬ ০৩:১১:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৯-০৩-২০২৬ ০৩:৫৪:০৪ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের আলোচিত সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরসহ আশপাশের এলাকায় যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারও হচ্ছে।
অভিযান শেষে এখানে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান।
সকাল ১১টায় বায়েজিদ লিংক রোডে জঙ্গল সলিমপুর যাওয়ার প্রবেশমুখে অভিযানের সর্বশেষ অবস্থা গণমাধ্যমকে জানান তিনি।
নাজমুল হাসান বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার ও অস্ত্রশস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। তবে মোট সংখ্যা অভিযান শেষে বলা যাবে। এলাকাটির অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এখানে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযান প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন বলেন, ‘সোমবার ভোর থেকে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযানে অংশ নিয়েছে।’ অভিযানে এখন পর্যন্ত কোনো শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার আছে কি-না, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
এর আগে ভোর ৫টা থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সলিমপুরে বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান শুরু করেন। অভিযানে ৩ হাজারের অধিক সদস্য অংশ নিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর চারটি সাঁজোয়া যানসহ একটি সেনা বহর অভিযানে অংশ নিতে দেখা গেছে। সকাল ১০টার পর থেকে অভিযানে ড্রোন এবং হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আকাশপথ থেকে নজরদারি করা হচ্ছে। এ ছাড়া মাটির নিচে বা ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নিয়োজিত রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডগ স্কোয়াড। একজন ম্যাজিস্ট্রেটও অভিযানে অংশ নিয়েছেন।
তবে সাংবাদিকদের কাউকে জঙ্গল সলিমপুরে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। বায়েজিদ লিংক রোডে সলিমপুরে প্রবেশ মুখে সাংবাদিকদের আটকে দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ, ৩৩০ এপিবিএন, ৪০০ র্যাব এবং ১২০ জন বিজিবি সদস্য অংশ নিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় এটিই সবচেয়ে বড় এবং সমন্বিত অভিযান।
পাহাড়ি ও দুর্গম এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসীদের অবস্থান, অবৈধ অস্ত্র মজুত এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আত্মগোপনের অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৯ জানুয়ারি এই জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। ওই ঘটনার পর থেকেই সরকার এখানে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করে। ওই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা করে র্যাব। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। এতে ইয়াসিন ও নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযান পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কয়েকটি দলে ভাগ করা হয়েছে। একটি দল পাহাড়ের নিচের বসতিগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছে। আরেকটি দল পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতে আগে থেকেই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে, যাতে অভিযান শুরুর খবর পেয়ে কেউ এলাকা ছেড়ে যেতে না পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স