ইতিকাফ কখনো পরিত্যাগ করেননি নবীজি (সা.)
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৮-০৩-২০২৬ ০২:৩৪:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৮-০৩-২০২৬ ০২:৩৪:০০ অপরাহ্ন
প্রতীকী ছবি
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এই মাসে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য বিভিন্ন ইবাদতের সমাহার রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রমজানের শেষ দশকে গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল রয়েছে, তা হল ইতিকাফ। এটা এমন এক ইবাদত, যা রসুলুল্লাহ (সা.) সবসময় গুরুত্বসহকারে পালন করেছেন এবং জীবনে কখনো পরিত্যাগ করেননি।
ইতিকাফের অর্থ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মসজিদে অবস্থান করে ইবাদতে নিমগ্ন থাকা। এর মাধ্যমে দুনিয়ার ব্যস্ততা ও বিভ্রান্তি থেকে নিজেকে ফারেগ করে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা যায়। এটি শুধু একটি ইবাদতই নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম। রসুলুল্লাহ (সা.) প্রতি বছর রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০২৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৭২)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়- ইতিকাফ ছিল নবীজি (সা.)-এর জীবনের ধারাবাহিক এক সুন্নাহ।
ইতিকাফের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা। কোরআনে এই রাতকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে। তাই নবীজি (সা.) এই মহামূল্যবান রাতের সন্ধানে রমজানের শেষ দশ দিন ইতিকাফ করতেন। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে রমজানের প্রথম দশকে ইতিকাফ করলেন লাইলাতুল কদর অনুসন্ধানের জন্য। পরে মধ্য দশকেও ইতিকাফ করলেন। এরপর তাকে জানানো হলো যে লাইলাতুল কদর শেষ দশকের মধ্যে রয়েছে। তাই তিনি শেষ দশকে ইতিকাফ করেন (সহিহ বুখারি-২০২৭)।
ইতিকাফ মানুষের হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করে এবং দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। এটি আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির একটি প্রশিক্ষণও বটে। এই সময় একজন মুসলমান নিজের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হয়, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং ভবিষ্যতে সৎ জীবনযাপন করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করে। আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারি না। কিন্তু ইতিকাফ আমাদের সেই সুযোগ এনে দেয়, যেখানে আমরা কয়েকটি দিন সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর ইবাদতে নিবেদিত থাকতে পারি। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা এবং নবীজি (সা.)-এর জীবনের ধারাবাহিক সুন্নাহর ওপর আমল করা। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : মাহফুজ হোসাইনী। আলেম, সাংবাদিক।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স