ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদরা অনুপ্রাণিত করছে পুরো জাতিকে

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ১১:৪০:১৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ১১:৪০:১৪ পূর্বাহ্ন
বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদরা অনুপ্রাণিত করছে পুরো জাতিকে ফাইল ছবি
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একসময় নারীদের উপস্থিতি ছিল সীমিত। সামাজিক বাধা, সুযোগের অভাব এবং নানা সংশয় তাদের পথকে দীর্ঘদিন কঠিন করে রেখেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। ক্রিকেট ও ফুটবলের মাঠে এখন বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদরা শুধু অংশ নিচ্ছেন না—নেতৃত্ব দিচ্ছেন, শিরোপা জিতছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা উঁচু করে ধরছেন। ব্যক্তিগত সংগ্রাম, দৃঢ়তা এবং অদম্য স্বপ্নের শক্তিতে তারা আজ হয়ে উঠেছেন নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।

গত এক দশকে আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) তথ্য ও বিভিন্ন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করলে এমন চিত্রই ফুটে ওঠে। তবে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। সামাজিক কুসংস্কার, পারিবারিক দ্বিধা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং সুযোগের অভাব দীর্ঘদিন তাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। তবুও এসব বাধা অতিক্রম করে অনেক নারী আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ক্রিকেট ও ফুটবলে তাদের অর্জন কেবল ম্যাচ জয়ের গল্প নয়; বরং এটি সাহস, অধ্যবসায় এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতিফলন। ব্যক্তিগত সংগ্রাম, শিক্ষাজীবনের চ্যালেঞ্জ, পারিবারিক সমর্থন এবং পেশাদার নিষ্ঠার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই যাত্রা বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনুপ্রেরণামূলক অধ্যায় রচনা করেছেন।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং বর্তমান অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। রংপুরে জন্ম নেওয়া জ্যোতির ক্রিকেটযাত্রা শুরু থেকেই সহজ ছিল না। শৈশবে তিনি প্রায়ই ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন, আর তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলতেন—মেয়েদের জন্য ক্রিকেট কি উপযুক্ত খেলা? তবে এসব মন্তব্যকে উপেক্ষা করে পরিবারের সমর্থন এবং কোচদের উৎসাহে তিনি খেলা চালিয়ে যান। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর ধীরে ধীরে তিনি দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার ও উইকেটকিপার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ঐতিহাসিক নারী টি–টোয়েন্টি এশিয়া কাপজয়ী বাংলাদেশের দলেও তিনি ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পরবর্তী সময়ে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

শৈশবের স্মৃতি মনে করে জ্যোতি বলেন, “ছোটবেলায় আমি যখন ক্রিকেট খেলতাম, তখন অনেকেই অবাক হতো একটি মেয়েকে মাঠে দেখে। কেউ কেউ বলত ক্রিকেট মেয়েদের খেলা নয়। কিন্তু আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি সুযোগ পেলে নারীরাও সফল হতে পারে। এখন যখন দেখি ছোট ছোট মেয়েরা মাঠে ক্রিকেট খেলতে আসছে, তখন মনে হয় আমাদের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। নারী ক্রিকেটের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।” বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অভিজ্ঞ পেসার জাহানারা আলম। খুলনায় বেড়ে ওঠা জাহানারা শুরুতে হ্যান্ডবলসহ বিভিন্ন খেলায় যুক্ত ছিলেন। পরে ক্রিকেটের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে জাতীয় দলের ট্রায়াল থেকে বাদ পড়ার অভিজ্ঞতা তাকে হতাশ করেছিল। তবে সেই ব্যর্থতাই তাকে আরও কঠোর পরিশ্রমে অনুপ্রাণিত করে।

পরবর্তী সময়ে তিনি জাতীয় দলে জায়গা করে নেন এবং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পেস বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে তার অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাহানারা বলেন, “শুরুর দিকে অনেক বাধা ছিল। সুযোগও খুব সীমিত ছিল, আর কখনো কখনো ব্যর্থতা হতাশ করত। কিন্তু আমি কখনো হাল ছাড়িনি। সবসময় বিশ্বাস করেছি কঠোর পরিশ্রম একদিন সুযোগ এনে দেবে। এখন যখন দেখি তরুণীরা ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে ভাবছে, তখন সত্যিই ভালো লাগে।”

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ