ঢাকা , শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬ , ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তেলের পাম্পে উপচে পড়া ভিড় তবু মিলছে না তেল

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৭-০৩-২০২৬ ০১:৩৪:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৭-০৩-২০২৬ ০১:৩৪:০৯ অপরাহ্ন
তেলের পাম্পে উপচে পড়া ভিড় তবু মিলছে না তেল সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
রাজধানীসহ সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোয় বাড়তি চাহিদার কারণে বেশিরভাগ পাম্পে মিলছে না তেল। এতে খালি হাতে ফিরছেন যানবাহন চালকরা। পাম্পে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়। শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর পেট্রল পাম্পগুলোয় গাড়ি আর মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়মে মিলছে না তেল। বেশিরভাগ পাম্প থেকেই ফিরে যাচ্ছে যানবাহন। তেল না পাওয়ায় অনেকেই জড়াচ্ছেন বাকবিতণ্ডায়। এ সময়, সরকারকে পেট্রল পাম্পগুলোর প্রতি কঠোর নজরদারি করার আহ্বান জানান গ্রাহকরা। এদিকে পাম্প মালিকরা বলছেন, যে পরিমাণ তেল আসার কথা তেমন আসছে না। তারা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বাড়তি চাহিদার কারণে এ সংকট দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, রাজধানী ছাড়াও সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় পেট্রল পাম্প ও ডিপোতে আজও রয়েছে ক্রেতাদের ভিড়। যানভিত্তিক কোটা মেনেই দেওয়া হচ্ছে জ্বালানি তেল। এদিন সকাল থেকেই প্রতিটি পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ক্রেতারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে সেই আশঙ্কায় আগেভাগেই প্রয়োজনমত পেট্রল, অকটেন সংগ্রহে রাখছেন। তবে কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত চাহিদার জন্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এখনো কোনো সংকট নেই। আজ সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য চালকদের জটলা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পেট্রল পাম্প মালিক বলেন, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। কিছু পাম্প মালিক তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন— এমন খবর পাওয়া গেছে, যা অনৈতিক বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি চালকদের আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিছু চালকের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। তাদের দাবি, গত দুদিন ধরে তেল সরবরাহ কমে গেছে।

শাহজাহানপুর উপজেলা থেকে কয়েকটি তেলের পাম্প ঘুরে বগুড়া ফিলিং স্টেশনে আসা একজন জানান, এক ঘণ্টা ধরে তেল নেওয়ার জন্য ঘুরছি। মাঝিরা টিএমএসএস পাম্পে প্রচুর ভিড়। তার তুলনায় বগুড়া ফিলিং স্টেশন একটু কম। এখান থেকে না পেলে মোটরসাইকেল চালানো যাবে না। কমল নামে এক মোটরসাইকেল চালক জানান, এভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ করে জনগণকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হচ্ছে। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ লাগছে। আর এখানে সিন্ডিকেট সুযোগ নেওয়া শুরু করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ঘোষণা না থাকলেও সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তবে ভোক্তাদের একাংশ মনে করছেন, গুজবের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতাও পরিস্থিতি জটিল করেছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ