ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ব্যাপক প্রস্তুতি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ০১:৫৮:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৬ ০১:৫৮:০৪ অপরাহ্ন
ঈদযাত্রায় দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ব্যাপক প্রস্তুতি ফাইল ছবি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ দৌলতদিয়া ঘাট ঘিরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার মানুষের বাড়ি ফেরা নির্ভর করছে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটের ওপর। ফলে ঈদের সময় এই নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেরি, লঞ্চ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে দৌলতদিয়া–পাটুরিয়া নৌরুটে ১৬টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে এই নৌপথে ১৭টি লঞ্চ চলাচল করবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে ঈদের সময় লঞ্চ চলাচল ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, নৌপুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যানবাহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, আসন্ন ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি, লঞ্চ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতিতে স্বস্তি প্রকাশ করছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা। তবে ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নেওয়া প্রস্তুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। দৌলতদিয়া ঘাটে অপেক্ষমাণ বাসচালক আনোয়ার বলেন, ঈদের সময় এই রুটে গাড়ির চাপ অনেক বেড়ে যায়। যদি ফেরি বেশি চালু রাখা হয় এবং ঘাটে শৃঙ্খলা থাকে তাহলে আমাদেরও সুবিধা হবে, যাত্রীদেরও কষ্ট কম হবে। আমরা চাই প্রশাসন যেন চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে সবাই নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারবে।

লঞ্চে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা এক যাত্রী ফিরোজ মোল্লা বলেন, ঈদের সময় বাড়ি ফিরতে হলে এই নৌরুটটাই আমাদের ভরসা। শুনছি এবার ফেরি ও লঞ্চ বাড়ানো হয়েছে, যদি সত্যিই নিয়মিত চলাচল করে তাহলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। আমরা চাই নিরাপদে ও দ্রুত যেন পরিবার-পরিজনের কাছে পৌঁছাতে পারি। ঘাট এলাকার শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ঈদকে ঘিরে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় মানুষের যাতায়াত অনেক বেড়ে যায়। এতে আমাদের ব্যবসাও কিছুটা বাড়ে। তবে আমরা চাই ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় থাকুক এবং চাঁদাবাজি বা কোনো ধরনের হয়রানি না থাকুক। তাহলে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও স্বস্তিতে কাজ করতে পারবে।

ঘাটে অপেক্ষমাণ ট্রাকচালক মাজেদ বলেন, ঈদের সময় এই নৌরুটে যানবাহনের চাপ অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। যদি ফেরি সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়মিত চলাচল নিশ্চিত করা যায়, তাহলে আমাদের অপেক্ষা কমবে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। প্রশাসন যদি ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখে, তাহলে যাত্রী ও চালক—সবারই সুবিধা হবে। স্থানীয় এক বাসিন্দা শাহিন খান বলেন, ঈদের সময় দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ খুব বেড়ে যায়। তবে এবার যেসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে—ফেরি, লঞ্চ এবং প্রশাসনের সমন্বয়—সেটা আমাদের জন্য স্বস্তির খবর। আশা করছি সবাই নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নভাবে বাড়ি ফিরতে পারবে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের ম্যানেজার মো. হাতেম আলী মিয়া বলেন, যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি আমাদের এখানে নেই। কারণ আমরা ওপর থেকে টিকিট কেটে দিই। লঞ্চ সবসময়ের জন্য আছে। যাত্রীদের ভোগান্তির কথা ভেবে আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক, মো. সালাহউদ্দিন বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৪টি ফেরি চলাচল করছে। এবং ঈদ উপলক্ষে আরও ২টি ফেরি বাড়িয়ে মোট ১৬টি ফেরি চলাচল করবে। দৌলতদিয়-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৬টি ফেরির মাধ্যমে এবং দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে সচল থাকা তিনটি ঘাটের মাধ্যমে পারাপারের জন্য আগত যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের ভালোভাবে পার করতে সক্ষম হব।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ঈদের সময় ফেরি ও লঞ্চে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ বিশেষ সতর্ক অবস্থানে থাকবে এবং ঘাট এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে দৌলতদিয়া ঘাটে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রশাসন দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানান, ঘাট এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে থাকবে প্রশাসন।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ