ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলায় টিউবওয়েল চাপলেই বের হচ্ছে গ্যাস

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৭-০২-২০২৬ ০৩:০৯:৩২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৭-০২-২০২৬ ০৩:০৯:৩২ অপরাহ্ন
ভোলায় টিউবওয়েল চাপলেই বের হচ্ছে গ্যাস ছবি: সংগৃহীত
ভোলায় একটি স্যালো টিউবওয়েল চাপলেই বের হচ্ছে গ্যাস—এমন খবরে প্রতিদিনই সেখানে ভীর জমাচ্ছেন উৎসুক লোকজন। আবার কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিতের চেষ্টাও করছেন। যা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

কারো ধারণা মজুদ রয়েছে বিপুল পরিমাণ গ্যাস, আবার কারো ধারণা স্থানটির মাটির নিচে জমা রয়েছে পকেট গ্যাস। তবে বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য বাপেক্সকে জানানোর কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতুলি বাজার-সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধের ২০ ফিট ভেতরে স্থানীয় জেলে জেবল হক মাঝির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে জানা যায়, মেঘনা নদী তীরের বাসিন্দা জেবল হক মাঝি গত ২২ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে বাড়ির উঠানে একটি স্যালো টিউবওয়েল স্থাপন করেন। ৬০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ বোরিং করে পানি উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পানি না উঠে পাইপের ভেতর থেকে বুদবুদ শব্দ বের হতে থাকলে বিষয়টি তাদের সন্দেহ হয়। এ সময় টিউবওয়েলের মুখে আগুন দিলে তা মুহূর্তে জ্বলে ওঠে। এভাবে প্রতিবার টিউবওয়েল চাপার পর আগুন দিলেই জ্বলে উঠে। তাদের ধারণা পানির সঙ্গে গ্যাস নির্গত হচ্ছে। যা দেখতে দূরদূরান্তের লোকজন এসে ভীর জমাচ্ছে বাড়িটিতে।

ওই বাড়িতে গিয়ে জেবল হক মাঝি ও তার তিন ছেলে নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ায় তাদেরকে পাওয়া যায়নি। তবে কথা হয় জেবল হক মাঝির ছেলে মো. ইসমাইলের স্ত্রী রাবেয়া বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমার ভাসুর মো. খলিল, জলিল ও স্বামী ইসমাইল মিলে ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে টিউবওয়েলটি বসিয়েছেন। টিউবওয়েলটি বসানোর পুরো প্রক্রিয়া শেষে পানি উঠছিল না, পরে বিষয়টি ঠিকাদারের শ্রমিকদের সন্দেহ হয় এবং তারা আমাদেরকে বলেছে-একটা গ্যাসলাইট দেন। এরপর একজনে টিউবওয়েলে চাপ দিয়ে অন্যজন উপরের দিক দিয়ে গ্যাস লাইটের আগুন ধরালে টিউবওয়েলের ভেতর থেকে আগুন জ্বলে উঠে। গত রোববার বিকেল ৩টা থেকে এখনও একই অবস্থায় রয়েছে।

রাবেয়া বেগম আরও বলেন, দূরদূরান্তের লোকজন টিউবওয়েলটি দেখতে আমাদের বাড়িতে আসে। কেউ বলে পকেট গ্যাস আবার কেউ কেউ বলে এখানে গ্যাসের খনি রয়েছে। আমরা তো আর এতো কিছু বুঝি না। যাই হোক, সরকারের উচিত পরীক্ষা করে দেখা। আমরা চাই পরীক্ষা করা হোক, এখানে আসলেই গ্যাসের খনি আছে কিনা।

উৎসুক জনতা ফজলে রাব্বি, ছগির মিয়া, ওয়ারিছ ও সাইফুল বলেন, শুনেছি এই বাড়ির একটি টিউবওয়েল থেকে গ্যাস বের হয় এবং আগুন দিলে তা জ্বলে তাই দেখতে আসছি। হয়তো এখানে গ্যাসের খনি রয়েছে অথবা এখানে মাটির নিচে কিছু পরিমাণ জমা গ্যাস জমা রয়েছে। যেহেতু ভোলাতে ইতোমধ্যে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস পাওয়া গেছে তাই গ্যাসের খনি থাকার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমরা চাই কতৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করুক।এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করেছি, শিগগিরই বাপেক্সকে অবহিত করবো। অনেকসময় দেখা যায়, পকেট গ্যাস থাকে, বাস্তবে খনি নেই। বাস্তবিক অর্থে পুরো ভোলাটাই গ্যাসের উপরে ভাসমান, সব বিবেচনায় আমরা কাজ শুরু করবো। এখানে যদি গ্যাসের বড় খনি পাওয়া যায় তাহলে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

প্রসঙ্গত, প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ দ্বীপজেলা ভোলায় নয়টি কুপ ও তিনটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে। বাংলাদেশ গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের তথ্য মতে, ভোলা জেলার গ্যাসফিল্ডসমুহে মজুদকৃত গ্যাসের পরিমাণ ২ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট (টিসিএফ)।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ