তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করে হাত মুছে নিয়েছে ইসি: বদিউল আলম
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৯-০২-২০২৬ ০৬:১৮:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৯-০২-২০২৬ ০৬:১৮:০০ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ ওঠার পরও তদন্ত না করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর মাধ্যমে কমিশন নিজের দায়িত্ব শেষ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির কারচুপির অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে অযোগ্য প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের পরও নির্বাচন কমিশন কোনো তদন্ত করেনি। বরং তড়িঘড়ি করে গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করেছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কারচুপি হয়েছে কিনা বা নির্বাচন সুষ্ঠু ছিল কিনা, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে নির্বাচন কমিশনের তদন্তের সুযোগ ও দায়িত্ব রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে কমিশন নির্বাচন বাতিল করতে পারে এবং পুনর্নির্বাচনের নির্দেশও দিতে পারে। কিন্তু গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে কমিশন সে সুযোগ থেকে নিজেকে মুক্ত করে ফেলেছে। এখন বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভর করছে।
বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, অভিযোগের বিষয়গুলো নির্বাচন কমিশনেরই তদন্ত করা উচিত ছিল। ঋণখেলাপি, বিলখেলাপি, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও অন্যান্য অযোগ্যতার অভিযোগগুলো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর গেজেট প্রকাশের জন্য কমিশনের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ছিল নির্বাচনের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা। প্রক্রিয়াটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা মানা হয়নি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তারা শুধু রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেয়া ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে যে দায়িত্ব পালন করার কথা, তা তারা করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি সাংবাদিকদের এসব বিষয় খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, হলফনামা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা অভিযোগ উঠলে গেজেট প্রকাশের পরও নির্বাচন কমিশনের তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজনে তারা নির্বাচন বাতিল করতেও পারে।
সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার। সুজনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৭১ জনের সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি টাকার বেশি। এই হার মোট বিজয়ী প্রার্থীর ৯১ দশমিক ২৫ শতাংশ। আর ৫ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক ১৮৭ জন সংসদ সদস্য, যা মোটের ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স