ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​নির্বাচনি নিরাপত্তায় প্রস্তুত বিমানবাহিনীও

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৮-০২-২০২৬ ১১:৩৪:৪২ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ০৮-০২-২০২৬ ০২:৫২:১৪ অপরাহ্ন
​নির্বাচনি নিরাপত্তায় প্রস্তুত বিমানবাহিনীও ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনি মাঠে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে আকাশপথের নিরাপত্তা। স্থলবাহিনীর পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সরাসরি মোতায়েন, হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমানের দ্রুত লজিস্টিক সহায়তা এবং ড্রোনভিত্তিক নজরদারি—সব মিলিয়ে নির্বাচনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছে এক কৌশলগত ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ সক্ষমতা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ সদস্য ইতোমধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে কাজ করবেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় শুধু স্থলভিত্তিক টহল বা চেকপোস্টের ওপর নির্ভর না করে আকাশপথেও নজরদারি ও লজিস্টিক সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা সেনানিবাসের বিএএফ ঘাঁটি বাশারের সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ব্রিফিং ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঐতিহ্যগতভাবে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী কাজ করলেও  এবারের নির্বাচনে বিমানবাহিনীর ভূমিকা হবে সময় ও দক্ষতা বাড়ানো। বিশেষ করে তিনটি ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, দ্রুত মোতায়েন ও লজিস্টিক সাপোর্ট: দুর্গম এলাকা, উপকূল বা দ্বীপাঞ্চলে স্বল্প সময়ে জনবল ও সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

দ্বিতীয়ত, আকাশ নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহ: ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ বা সংঘর্ষপ্রবণ এলাকা আগাম শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। তৃতীয়ত, জরুরি সাড়া প্রদান: সহিংসতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা চিকিৎসা সহায়তার মতো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক এয়ার সাপোর্ট বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সরাসরি মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন ১ হাজার ২৫০ জন বিমান সেনা। বাকিরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন। আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ২১ জেলার ৩৫ উপজেলায় তারা দায়িত্ব পালন করবেন। পুরো সময়জুড়ে তারা ‘মোবাইল রেসপন্স সিস্টেম’ হিসেবে কাজ করবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের নির্বাচনে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কাঠামো স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব বা বিশেষায়িত ইউনিট, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী একই কমান্ড কাঠামোর অধীনে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এতে শুধু নিরাপত্তা জোরদারই হচ্ছে না, বরং দ্রুত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর অপারেশন পরিচালনাও সহজ হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে সংবেদনশীলতা থাকায় বিমানবাহিনী প্রধান বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার ওপর।

গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের ব্রিফিংয়ে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের কথা জানান তিনি। এই প্রস্তুতি কেবল আনুষ্ঠানিক মোতায়েন নয়, বরং নির্বাচনি নিরাপত্তায় প্রযুক্তিনির্ভর, দ্রুত ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার একটি কৌশলগত সংযোজন। স্থলবাহিনীর সঙ্গে আকাশ সক্ষমতার এই সমন্বয় নির্বাচনকালীন পরিবেশ শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ