বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকারের চিরবিদায়
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৬-০২-২০২৬ ০৩:২৮:৩৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৬-০২-২০২৬ ০৫:০৫:৩৮ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
প্রখ্যাত বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার (৬৭) মারা গেছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বেশ কয়েক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম (আসলাম) বাউলশিল্পী সুনীল কর্মকার।
তিনি বলেন, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাউলসাধক সুনীল কর্মকার পরলোকগমন করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসে আক্রান্তসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। মরদেহ নগরের আঠারোবাড়িতে রাখা হয়েছে। দুপুরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য টাউন হল মাঠে রাখা হবে। পরে জেলার গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।
১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বার্নাল গ্রামে দীনেশ কর্মকার ও কমলা কর্মকারের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন সুনীল কর্মকার। তিনি মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভরাট ও আবেগময় কণ্ঠে আসর মাতিয়ে তুলতেন তিনি। বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়াম- একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী ছিলেন এই শিল্পী। ছোটবেলায় তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে চোখের আলো হারান। দৃষ্টিহীন এই শিল্পী জীবন গড়ে তোলেন গানের সঙ্গে।
ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুর করে কণ্ঠ দিয়েছেন সুনীল কর্মকার। তার নিজের লেখা গানের সংখ্যা দুই শর কাছাকাছি। তিনি বাউল, মালজোড়া গান, মহাজনি গান ও লোকসংগীতের স্বনামধন্য শিল্পী ছিলেন। লোকসংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২২ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পকলা পদক লাভ করেন।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, শিল্পী সুনীল কর্মকার দীর্ঘকাল ধরে বাউল ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি ছিলেন গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যের ধারক। একতারা ও দোতারার ছন্দে তার কণ্ঠের সেই বিশেষ আবেদন শ্রোতাদের মুগ্ধ করত। সংগীতই ছিল তার একমাত্র ধ্যান ও জ্ঞান।
বাংলা স্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স