এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক: জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবি জামায়াতের
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৩-০২-২০২৬ ০৮:০০:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৩-০২-২০২৬ ০৮:০৬:১১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গভবনের একটি সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছে দলটি। এ ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বৈঠকে প্রতিনিধি দল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া বিতর্কিত পোস্টটিকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে রাজনীতি করছে। যারা এই পোস্টকে জামায়াত আমিরের বক্তব্য বলে প্রচার করছে, তারা নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চাচ্ছে। অন্যের সমালোচনায় ব্যস্ত না হয়ে তাদের নিজেদের দিকেই তাকানো উচিত।’
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার পর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া হয়।
বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় আইটি টিম তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয় এবং বিকাল ৫টা ৯ মিনিটে পাসওয়ার্ড পরিবর্তনের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। এরপর বিকাল ৫টা ২২ মিনিটে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে একটি জরুরি ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই ওই রাতেই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরদিন সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পুরো ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির দাবি, বঙ্গভবনের একটি সরকারি ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহার করে ফিশিং মেইলের মাধ্যমে এই সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি নারীবিদ্বেষমূলক পোস্ট প্রকাশ করা হয়, যা জামায়াতের ভাষায় ডা. শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও ব্যক্তিগত অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি একটি পরিকল্পিত সাইবার হামলা এবং এর পেছনে সরকারি ই-মেইল অপব্যবহারের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত জানায়, হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ বঙ্গভবনের একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস থেকে পাঠানো হয়েছে। ওই ই-মেইলের মাধ্যমে ‘Case-Study-Election.accdr’ নামের একটি ফাইল পাঠানো হয়, যার সাবজেক্ট ছিল ‘Urgent’। এতে জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাকে সিসিতে রাখা হয়েছিল।
ওই ফাইলটিতে ক্লিক করার পরই ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় বলে দাবি করা হয়।
জামায়াত আরও জানায়, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারের অফিসিয়াল ই-মেইল অ্যাড্রেস (assistantprogrammer@bangabhaban.gov.bd) ব্যবহার করে এই ফিশিং মেইলটি পাঠানো হয়েছিল। ফাইলে ক্লিক করার সঙ্গে সঙ্গেই এক্স অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ভেঙে পড়ে এবং হ্যাকাররা নিয়ন্ত্রণ নেয়।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স