মিয়ানমারে শেষকৃত্য ও বিয়ের অনুষ্ঠানে জান্তার হামলা, নিহত ২৭
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৪-০১-২০২৬ ০৩:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৪-০১-২০২৬ ০৩:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
মিয়ানমারের ভামো টাউনশিপের একটি গ্রামে শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে সামরিক জান্তা বাহিনীর বোমা হামলায় ২২ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কাউং জার গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। শুক্রবার ‘দ্য ইরাবতী’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) জানিয়েছে, এলাকাটি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জানা গেছে, কয়েক দিন আগে মারা যাওয়া এক বৃদ্ধের প্রার্থনা অনুষ্ঠানে (শেষকৃত্য) অংশ নিতে সেখানে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। হঠাৎ সেখানে বোমা হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। হামলার পর ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির আঙিনায় নারী-পুরুষের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ পড়ে আছে। কেআইএ-র মুখপাত্র কর্নেল নউ বু জানান, নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই গ্রামে বিদ্রোহী কোনো সৈন্য ছিল না জেনেও জান্তা বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জান্তা সরকার এখন শত্রু আর সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য করছে না। তারা স্কুল থেকে শুরু করে যেকোনো জনসমাগমে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে। একই দিন সকালে মগওয়ে অঞ্চলের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে জেট বিমান দিয়ে বোমা হামলা চালায় জান্তা। এতে একটি শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হন। এর আগে গত মঙ্গলবার আরাকান আর্মির একটি কারাগারেও বিমান হামলা চালায় জান্তা বাহিনী। এসব হামলায় শিশুসহ আরও অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
দেশজুড়ে জান্তা বাহিনীর এমন নির্বিচার হামলা বর্তমানে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবরে কাচিন রাজ্যের কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স অর্গানাইজেশনের (কেআইও) ৬২তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি গ্রামীণ কনসার্টে জান্তা বাহিনী তিনটি বোমা হামলা চালায়। এতে ব্যবসায়ী, শিল্পী এবং কেআইও সদস্যসহ ৮০ জন নিহত হন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে লাইজার কাছে একটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে জান্তার হামলায় শিশুসহ ২৯ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হন। লাইজাতে কেআইএ-র সদর দপ্তর অবস্থিত। বেসামরিক জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে জান্তার বিমান হামলায় ২ হাজার ৩২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪ হাজার ১৪৬ জন আহত হয়েছেন। এসব হামলায় ৩ হামলায় ৫৭৬টি ঘরবাড়ি, ১০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৩৬টি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ১৯০টি ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস হয়েছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স