বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
০৭-০১-২০২৬ ০৮:০৯:৩২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০১-২০২৬ ০৮:০৯:৩২ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
ভেনেজুয়েলার অবরুদ্ধ তেল যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে ১ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রকে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল হস্তান্তর করবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির ক্ষমতা পাবে। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত সরবরাহে চাপে থাকা বৈশ্বিক তেলবাজারে এই সিদ্ধান্ত আরও বড় দরপতনের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম নেমে আসে ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের একটু ওপরে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৫৬ দশমিক ৪৪ ডলারে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর করোনাকালের পর সবচেয়ে বড় বার্ষিক পতন দেখেছিল তেলের বাজার, আর নতুন এই সিদ্ধান্তে দাম আরও নামতে পারে।
ভেনেজুয়েলার তেলের প্রায় ৮০ শতাংশই যায় চীনে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ চীনের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং বেইজিংকে বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য করতে পারে। এতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা তার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পূর্ণ ও স্থায়ী সার্বভৌমত্ব ভোগ করে। যুক্তরাষ্ট্রের তেল হস্তান্তরের দাবি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং ভেনেজুয়েলার জনগণের অধিকারের পরিপন্থি বলেও মন্তব্য করেছে চীন।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ তিনি নিজে নিয়ন্ত্রণ করবেন এবং তা যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ট্যাংকারে থাকা তেল সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে এনে খালাস করা হবে।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি চান, ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে যুক্তরাষ্ট্র ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো ‘সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার’ পাক। এই চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটকে।
এই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়। এর আগে রাজধানী কারাকাসে হামলার পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে।
ট্রাম্প তখন ঘোষণা দেন, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার ভেঙে পড়া তেল শিল্প পুনর্গঠন করবে।
এদিকে, আগামী শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে শেভরন, কনোকোফিলিপস ও এক্সনমোবিলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বর্তমানে শেভরনই একমাত্র মার্কিন তেল কোম্পানি, যা এখনো ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের আমলে কনোকোফিলিপস ও এক্সনমোবিলের সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়।
ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্পদ চুরি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
একসময় দিনে ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত ভেনেজুয়েলা। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলে, যা বিশ্ববাজারের এক শতাংশেরও কম। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অবহেলায় দেশটির তেল শিল্প ভেঙে পড়েছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স