ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​নির্বাচনের পর আগের পেশাগত ভূমিকায় ফিরতে চান প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ০২-০১-২০২৬ ০১:৪৬:১৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০২-০১-২০২৬ ০১:৪৬:১৮ অপরাহ্ন
​নির্বাচনের পর আগের পেশাগত ভূমিকায় ফিরতে চান প্রধান উপদেষ্টা ​ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনের পর আগের পেশাগত ভূমিকায় ফিরে যাওয়ার কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিককে তাঁর এ ইচ্ছার কথা বলেছেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তাদের সৌজন্য সাক্ষাতের সময় আলাপচারিতায় উঠে আসা এ বিষয়টি বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষে অর্থনীতির শিক্ষক মুহাম্মদ ইউনূস তার টেকসই উন্নয়নের ‘থ্রি জিরো তত্ত্ব’ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবেন। গণমাধ্যমকে এ তথ্য দিয়েছেন তার দ্প্তরের একজন কর্মকর্তা।

দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও কার্বন নিঃসরণকে শূন্যে নামিয়ে আনাই থ্রি জিরো তত্ত্বের মূল ভিত্তি।

চব্বিশের আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্রুত হওয়ার পর ছাত্রদের আহ্বানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট দায়িত্ব নেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি ‘থ্রি জিরো’ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান ও সেমিনারে বক্তৃতা করতেন।

‘থ্রি জিরো তত্ত্ব’ নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে পরিচিতিও পেয়েছেন।

এটি তিনটি লক্ষ্য অর্জনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সেগুলো হচ্ছে- শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ। এটি অর্জনে তারুণ্য, প্রযুক্তি, সুশাসন ও সামাজিক ব্যবসার প্রয়োজন বলে তার বক্তৃতায় বিভিন্ন সময় তুলে ধরেছেন অধ্যাপক ইউনূস।

এদিকে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে বুধবার ঢাকায় আসা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

এসব বৈঠকের বিষয়ে বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এতে প্রধান উপদেষ্টার এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “সার্কের চেতনা এখনো জীবিত ও দৃঢ়।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি সার্কভুক্ত দেশগুলো যে সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে তাতে তিনি গভীরভাবে অভিভূত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকায় খালেদা জিয়ার শেষকৃত্যে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশ নেন।

তাদের মধ্যে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র, কর্মসংস্থান ও পর্যটনমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ এবং মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষা ও শ্রমমন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদ।

ঢাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মঙ্গলবার ভোর ৬টায় মারা যান।

তার মৃত্যুর পর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার জানাজার দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।

খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, কূটনীতিকদের পাশাপাশি সার্ক দেশের সরকারের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন।

জানাজার পর পাকিস্তানের স্পিকার এবং নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের মন্ত্রীরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তবে জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে কি না তা বলা হয়নি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

সফররত সার্কের দেশগুলোর প্রতিনিধিরা প্রয়াত খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং গণতন্ত্রের জন্য তার আজীবন সংগ্রাম ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

তারা বলেন, জানাজায় ‘রেকর্ড সংখ্যক’ মানুষের উপস্থিতি দেখে তারা অভিভূত।

‘এতে বোঝা যায় মানুষ তাকে কতটা সত্যিকারের ভালোবাসতেন,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

সবকটি বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বারবার সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

মালদ্বীপের মন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জানাজায় আমরা প্রকৃত সার্কের চেতনা দেখেছি। সার্ক এখনো বেঁচে আছে। সার্কের চেতনা এখনো জীবিত।”

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “গতকাল (বুধবার) সার্ক সক্রিয় ছিল। আমরা একসাথে আমাদের দুঃখ ভাগ করে নিয়েছি।”

বৈঠকগুলোতে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হওয়ার কথা তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশ ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

বৈঠকে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা বাংলাদেশের বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ডাকযোগে ভোটদানের ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ব্যবস্থা চালু করার পর বিদেশে বসবাসকারী এবং কর্মরত প্রায় সাত লাখ বাংলাদেশি পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করেছেন।

“আমরা আপনাদের এই অভিজ্ঞতা থেকে শিখব,” বলেন শ্রীলঙ্কার মন্ত্রী বিজিথা হেরাথ।

বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ