আসছেন তারেক রহমান: সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় বিমানবন্দর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৪-১২-২০২৫ ১০:৫০:৫৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২৪-১২-২০২৫ ১১:২৫:২৮ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নিরাপত্তায় কোনও ফাঁকফোকর না রেখে পুরো এলাকাজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে। ইতোমধ্যে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) থেকেই বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রী ছাড়া আর কেউ যেন প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ড্রোনের ব্যাপারেও দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা। ওই এলাকায় ড্রোন ওড়ানোয় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
বেবিচক মুখপাত্র কাওছার মাহমুদ বলেন, ‘নিরাপত্তার কোনও সংকট হবে না। সব বিষয় মাথায় রেখেই আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বলবৎ করেছেন। পুরো এলাকাজুড়েই কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, ‘এভসেক, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার ব্যাটালিয়ন এবং ডিএমপির পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করবেন।’ তিনি বলেন, ‘সব মিলিয়ে কয়েক হাজার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রবেশে থাকবে কড়াকড়ি। শুধু যাত্রী ছাড়া আর কাউকে বিমানবন্দরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। যেসব যাত্রী ভেতরে যাবেন তাদের কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে ঢুকতে হবে।’
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, অন্তত পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। বুধবার বিকাল থেকেই নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত সদস্যদের মোতায়েন শুরু হবে। বিমানবন্দর গোলচত্বর থেকে শুরু করে বেবিচক সদর দফতর, অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল এলাকা, পণ্য আমদানি রফতানির ৯ নম্বর গেট ছাড়াও ভেতর ও বাহিরের প্রতিটি গেটকে ঘিরে থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। সূত্র আরও জানায়, এসবের পাশাপাশি বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও থাকবে কড়াকড়ি। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কাউকে চলাফেরা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কাস্টমস এরিয়াতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিদের বৈধ কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল কমান্ডার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, ‘এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইটে ডিউটি করে। সেক্ষেত্রে আমাদের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। আমাদের কুইক রেসপন্স টিম (সিআরটি), ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন করা হবে। অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই তারা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।’
ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ: মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকালে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নিরাপদ বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব বিমানবন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।চিঠিতে বলা হয়, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ড্রোন নিবন্ধন ও উড্ডয়ন নীতিমালা ২০২০ অনুযায়ী বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোন উড্ডয়ন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও গত ১৯ ডিসেম্বর শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ বিমানবন্দরে গ্রহণ করার সময় তিন জন উপদেষ্টা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির উপস্থিতিতে কিছু ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিনা অনুমতিতে বিমানবন্দরে ড্রোন উড্ডয়ন করে ছবি ধারণ করে। এ ধরনের উড্ডয়ন বিমান চলাচলে মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করে। বিমানবন্দর ও সংলগ্ন এলাকায় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধি ও সর্বসাধারণকে ড্রোন উড্ডয়ন না করার জন্য অনুরোধ করা হলো।
দর্শনার্থী প্রবেশে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা, নিরাপত্তা এবং অপারেশনাল শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে দর্শনার্থী প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জনায়। বুধবার থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টা এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলেও জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট যাত্রীসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে বিশেষ অপারেশনাল ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আগামী ২৪ ডিসেম্বর বুধবার সন্ধ্যা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিমানবন্দর এলাকায় নির্ধারিত যাত্রী ব্যতীত সব সহযাত্রী/ভিজিটর প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স