দেশের জনগণকে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ফাঁদে পা দেবেন না। কিছু অতি-ডানপন্থী গোষ্ঠী ধ্বংসাত্মক এবং নৈরাজ্যকর রাজনীতির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
মাহফুজের মতে, বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে, চরম অতি-ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান রোধ করতে হবে। এটি একটি জরুরি জাতীয় দায়িত্ব। নিজের রাজনৈতিক নীতি- দায়, দরদ, মর্যাদা এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণের প্রতিও দৃঢ়ভাবে অটল থাকার কথা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
এছাড়া জুলাই বা দেশপ্রেমের নামে সহিংসতা ও অরাজকতার যে কোনও প্রচেষ্টা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করছেন বলেও জানিয়েছেন মাহফুজ। এটির কোনো বৈধতা দেবেন না বা এর কাছে আত্মসমর্পণ করবেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি। সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘জুলাই মাস থেকে শুরু করে, আমি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, পুনর্গঠন, আইনের শাসন এবং পুনর্মিলনের রাজনীতির পক্ষে দাঁড়িয়েছি। এটি ছিল শহীদ ওসমান হাদির রাজনৈতিক পথ, এবং আমি এটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার প্রতিশ্রুতিতে অটল আছি।’
মাহফুজ বলেন, ‘আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই: শহিদ মিনারে আমার বক্তৃতা ছিল ওসমান হাদিকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের প্রতি স্পষ্ট এবং সরাসরি নিন্দা এবং যারা আমাদের জীবনের জন্যও ক্রমাগত হুমকি। একইসঙ্গে সেই বক্তব্যে ধ্বংস নয়, বরং পুনর্গঠনের প্রতি আমার দৃঢ় ও নীতিগত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জুলাইয়ের প্রথম দিন থেকে শাহবাগে আজকের সমাবেশ পর্যন্ত, আমি ধারাবাহিকভাবে গঠনমূলক রাজনীতি, জবাবদিহির সঙ্গে স্বাধীনতা এবং অভিন্ন মানবিকতার ভিত্তিতে সহমর্মিতার পক্ষে আমার আওয়াজ তুলে ধরেছি। আমার অবস্থান স্পষ্ট, ধারাবাহিক এবং অটল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য আরও ভালো বিকল্প প্রয়োজন, যেমন একটি নিয়ম-ভিত্তিক সমাজ এবং শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান।’
আবারও শহিদ মিনারের প্রসঙ্গ এনে মাহফুজ বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, শহীদ মিনারে আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা আমার প্রকৃত উদ্দেশ্যের বিপরীত। এটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ এবং রূপকভাবে বলা। সেদিন আমার মন্তব্যে হতাশ হওয়া প্রতিটি সচেতন নাগরিকের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলার নিন্দাও জানান মাহফুজ, ‘আমি দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের উপর জঘন্য আক্রমণের তীব্র এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে নিন্দা জানাই। গণতান্ত্রিক সংগ্রামের নীতিবান ও সাহসী কণ্ঠস্বর আমাদের সম্মানিত কমরেড নুরুল কবিরকে লক্ষ্য করে হামলা এবং উস্কানির নিন্দা জানাই।’
মাহফুজ আরও বলেন, ‘আমাদের সামনের পথ স্পষ্ট। আমরা শহিদ ওসমান হাদির উত্তরাধিকারকে বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে নয়, বরং প্রতিরোধ, পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সম্মান জানাব। শহিদ ওসমান হাদির অসম্পূর্ণ কাজ- ফ্যাসিবাদ এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আমাদের সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংগ্রাম ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।’
সরকারের প্রতি মাহফুজের আহ্বান, ‘আমি সরকারি সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সতর্ক থাকার এবং সেই অনুযায়ী কাজ করার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি। বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে আমি আমার সকল সহ-নাগরিককে শান্ত, সজাগ এবং দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার জন্য অনুরোধ করছি। আল্লাহ শহিদ ওসমান হাদিকে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান দান করুন।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন