ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এনসিপি নেত্রী জান্নাতারার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তোলপাড়

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৮-১২-২০২৫ ০৩:৩৩:১৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-১২-২০২৫ ০৩:৩৬:৪০ অপরাহ্ন
এনসিপি নেত্রী জান্নাতারার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তোলপাড় ​ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর হাজারীবাগে ছাত্রী হোস্টেল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম জান্নাতারা রুমী (৩০)। তিনি এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি শাখার সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর জিগাতলা পুরাতন কাঁচাবাজার রোড এলাকায় অবস্থিত জান্নাতি ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, জান্নাতারা রুমী নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নাজিরপুর এলাকার মো. জাকির হোসেনের মেয়ে। তার মায়ের নাম নুরজাহান বেগম। 

এদিকে, জান্নাতারা রুমীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, এটি আত্মহত্যা। আর তার সহকর্মীরা বলছেন,  ক্রমাগত সাইবার বুলিং, হ/ত্যা ও রেপ থ্রেটে অতিষ্ঠ হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন জান্নাতারা রুমী।

রুমীর নাম আলোচনায় আসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের দিন দুপুরে ধানমন্ডিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে মারধরের ঘটনায়। এদিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে ‘জয় বাংলা’ বলে স্লোগান দেওয়ায় ওই নারীকে মারধর করেন জান্নাতারা রুমী। পরে পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর থেকেই জান্নাতারা রুমী সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ও ধমকির শিকার হচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে লিখেন, ‘কীভাবে লিখব বুঝতেছি না। আমার হাত কাঁপতেছে। আপনাদের মনে থাকার কথা, গত মাসে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের দিন ধানমন্ডি ৩২-এ ফ্যাসিস্ট ও খুনি আওয়ামী লীগাররা কী সিন ক্রিয়েট করেছিল। সেখানে একজন জেন-জি নারীকে আপনারা দেখেছিলেন এক আওয়ামী লীগারকে (যে জিয়ার কবর খুঁড়তে চাইছিল) পিটায়ে পুলিশের কাছে ধরায়ে দিতে।’

স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেন, ‘সেই জেন-জি নারী গত এক মাস ধরে আওয়ামী লীগের ক্রমাগত সাইবার বুলিং, হ/ত্যা ও রেপ থ্রেটে অতিষ্ঠ হয়ে আজ রাতে আত্মহত্যা করেছে। ধানমন্ডির ভাই ব্রাদারদের সাথে কথা হলো। তারা গত এক মাসে সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে তার পাশে থাকার। কিন্তু সাইবার বুলিং আর ফোনকলে সারাদিন থ্রেট পাওয়ার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি। তবে কারোর কল্পনাতেও ছিল না, বুলিংয়ের মাত্রা এত তীব্র যে সে আত্মহননের পথ বেছে নেবে।’

তারেক রেজা আরও লিখেন, ‘এটাকে আমরা আত্মহত্যা হিসেবে দেখতে রাজি নই। এটা খুন। যারা আমার বোনের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে, তাদের জীবন আমরা শান্তিতে কাটাতে দেবো না। আমার বোনের রক্তের শপথ!’

রুমী ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া সর্বশেষ স্ট্যাটাসে ওসমান হাদির কথা উল্লেখ করেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ইয়া আল আল্লাহ, হাদিকে ভাইকে আমাদের খুব দরকার।’

একদিন আগের আরেক পোস্টে একটি ছবি যোগ করে তিনি লেখেন, ‘একদিন ভোর হবে, সবাই ডাকাডাকি করবে কিন্তু আমি উঠব না..কারণ আমি ভোরে উঠি না.!’

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। হাজারীবাগ থানার ওসি (অপারেশন) দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তদন্তসাপেক্ষে আসল ঘটনা বের হবে।’

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, পারিবারিকভাবেও মানসিক চাপে ছিলেন জান্নাতারা রুমী। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে

​হোস্টেল থেকে এনসিপি নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ