‘মুক্তিযুদ্ধের গল্পে রাজাকারের পাঠ’ নাটক মঞ্চায়ন, জামায়াত নেতাদের বাধা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৭-১২-২০২৫ ০৪:২৪:০১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৭-১২-২০২৫ ০৪:২৪:০১ অপরাহ্ন
জামায়াত নেতাদের বাধার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ছবি : সংগৃহীত
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্পে রাজাকারের পাঠ’ নাটকটি মঞ্চায়নের সময় জামায়াত নেতাদের বাধার ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নাটকে নারী নির্যাতনের একটি দৃশ্য তুলে ধরা হয়। এসময় অভিনেতারা পাঞ্জাবি ও টুপি পরা থাকায় জামায়াত ইসলামীর স্থানীয় নেতারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ তুলে নাটকটি মঞ্চায়নে বাধা দেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ মাঠে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষার্থী, অধ্যক্ষ, ইউএনও ও জামায়াত নেতাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এসময় শিক্ষার্থীরা জামায়াত এবং রাজাকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনার একটি ভিডিও মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রথম প্রহরের অনুষ্ঠান শেষে আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজ মাঠে সকাল ১০টার দিকে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান চলছিল। এসময় নারী নির্যাতনের অভিনয়ে ‘রাজাকারের পাঠ মঞ্চ’ নামে নাটক চলছিল। আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজর প্রায় ১২ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন ওই নাটকে। এসময় তারা পাঞ্জাবি-টুপি পরে মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকারের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে নিয়ে অভিনয় করায় মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ এনে মঞ্চ থেকে প্রতিবাদ জানান রামগতি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুর রহিম ও পৌর আমীর আবুল খায়ের। তারা মঞ্চ থেকে তেড়ে গিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মাদ আশরাফ উদ্দিনের কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা জানতে চান। এসময় দু'পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। তখন ওই মঞ্চে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা, রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান ও মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দু'পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে কলেজটির শতাধিক শিক্ষার্থী শহীদ মিনার চত্বরে গিয়ে জামায়াত নেতাদের বাধার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজাকারের আস্তানা রামগতিতে হবে না, রাজাকারের আস্তানা বাংলাদেশে হবে না, রাজাকারের আস্তানা এই কলেজে হবে না মর্মে নানা স্লোগান দেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির সমাধান হলে বাকি অংশ শেষ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন,পাঞ্জাবি-টুপি পরে অভিনয় করায় আমি একজন মুসলমান হিসেবে এই অভিনয়কে মেনে নিতে পারিনি, তাই আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে এই ধরনের অভিনয়ের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছিলাম। পরে প্রশাসনের মধ্যস্ততায় বিষয়টির সমাধান হয়েছে।
আ স ম আব্দুর রব সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফ উদ্দিন বলেন, একটু ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। পরে আমরা সমাধান করেছি।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে নিয়ে নাটক চলছিল। এই নাটকে পাঞ্জাবি-টুপি ব্যবহার করায় এক পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হলে একটু কথা-কাটাকাটি হয়েছে। পরে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ্ নিলুফা ইয়াসমিন নিপার বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স