শীতের ছোঁয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাদর তৈরির কারিগররা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৭-১২-২০২৫ ০৩:০৬:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৭-১২-২০২৫ ০৩:০৮:৩০ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
দেশজুড়ে শীতের আমেজ স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। শীত নিবারণে লেপ-কম্বলের পাশাপাশি চাদরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার শিল্পাঞ্চলখ্যাত কাঞ্চন এলাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাদর তৈরির কারিগর ও ব্যবসায়ীরা।
দেশের অন্যতম বৃহৎ চাদর উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কাঞ্চন এলাকায় বর্তমানে অর্ধশতাধিক টেক্সটাইল ও পাওয়ারলুম কারখানায় তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের বাহারি ডিজাইনের চাদর। শীতের আগমনে এসব চাদরের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে কাঞ্চনে তৈরি চাদর।
শিল্পাঞ্চলজুড়ে দিনরাত চলছে পাওয়ারলুমের ঠকঠক শব্দ। তৈরি হচ্ছে রাজিব শাল, উলেন শাল, কাতান শাল, বোম শাল, উড়না ও কম্পিউটার নকশায় তৈরি আধুনিক ডিজাইনের চাদর। এসব পণ্য রূপগঞ্জের গাউছিয়া পাইকারি বাজার, শেখের চর বাবুর হাট, করটিয়া ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
চাদর তৈরিতে যুক্ত কারিগররা জানান, শীতের মৌসুমে তাদের কাজের চাপ বহু গুণ বেড়ে যায়। তবে তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় যেন ভারতীয় চাদর অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করতে না পারে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যাংক ঋণের জটিলতা ও উচ্চ করের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ এবং ট্যাক্সের পরিমাণ কমানো গেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প টিকে থাকবে।
কাঞ্চন পৌর টেক্সটাইল মালিক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, কাঞ্চনের চাদর দেশ-বিদেশে সমাদৃত হলেও আর্থিক সংকটে অনেক উদ্যোক্তা এ শিল্প থেকে সরে যাচ্ছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে একসময় এই শিল্প হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, চাদর শিল্প রূপগঞ্জের একটি ঐতিহ্য। এ শিল্পকে বাঁচাতে সরকারকে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা ও কর ছাড় দিতে হবে। তাহলেই কাঞ্চনের চাদর শিল্প আরও এগিয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর কাঞ্চন এলাকার মিছির আলী ভূঁইয়া প্রথম জাপান থেকে হ্যান্ডলুম মেশিন আমদানি করে পলিস্টার সুতার পাতলা চাদর উৎপাদন শুরু করেন।
১৯৮৩ সালে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হলে বৈদ্যুতিক পাওয়ারলুম স্থাপন হয় এবং ১৯৯০ সালের পর জ্যাকেট ও কম্পিউটারাইজড মেশিনের মাধ্যমে আধুনিক ডিজাইনের চাদর উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে কাঞ্চনের প্রায় ৬০টি কারখানায় কর্মরত প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স