ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তফসিলের পর বেআইনি আন্দোলন দমনে কঠোর হবে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৯-১২-২০২৫ ০৬:২৮:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৯-১২-২০২৫ ০৭:০৭:৫০ অপরাহ্ন
তফসিলের পর বেআইনি আন্দোলন দমনে কঠোর হবে সরকার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তফসিল-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। 

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই যেকোনো ধরনের বেআইনি, অনুমোদনহীন সমাবেশ, মিছিল–বিক্ষোভ বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ সময় আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর হয়—এটাই বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এজন্য নির্বাচনের পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা জোরদারে নির্বাচনের সময় সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাবসহ সব আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। এবার প্রায় নয় লাখ সদস্য মাঠে থাকবে—যা দেশের নির্বাচনি ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ইতোমধ্যে দেড় লাখেরও বেশি পুলিশ সদস্যকে বিশেষ নির্বাচনি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ভোটের দিনসহ পুরো নির্বাচনি সময়ে দক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার পর যেকোনো রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনুমতি ছাড়া রাস্তায় সমাবেশ, মিছিল বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কার্যক্রম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ করবে। বেআইনি সমাবেশে অংশ নিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ হয়েছে। জনগণের ন্যায্য দাবিতে সরকার সবসময়ই সাড়া দিয়েছে, আলোচনা করেছে এবং সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমরা নির্বাচনমুখী সময়ের মধ্যে আছি। তাই সব রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীকে অনুরোধ করছি—তাদের যেকোনো দাবি-দাওয়া নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপন করুন। এখন উত্তেজনা তৈরি করার বা স্বাভাবিক পরিস্থিতি নষ্ট করার সময় নয়।’

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ