ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে কব্জি হারালেন বিদ্যুৎকর্মী

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০১-১২-২০২৫ ০৪:১৯:২৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০২-১২-২০২৫ ১১:৩৭:২৯ পূর্বাহ্ন
​কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়ে কব্জি হারালেন বিদ্যুৎকর্মী ঢাকা মেডিকেলে আহত বিদ্যুৎকর্মীর পরিবার, ইনসেটে আহত জামাল খন্দকার। ছবি : ফোকাস বাংলা নিউজ
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সঞ্চালন লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎকর্মীদের বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঘটনা থামছেই না। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে নিহতের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শ্যামলী ডিভিশনে উচ্চচাপ সঞ্চালন লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুতায়িত হয়েছেন জামাল খন্দকার নামে এক বিদ্যুৎকর্মী। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল দশটা ৪০ মিনিটে মোহম্মদপুরের আসাদগেট প্রধান সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

শ্যামলী সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তারিকুল ইসলাম বাংলা স্কুপকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, রোববার (৩০ নভেম্বর) মোহাম্মদপুর এলাকায় আসাদগেট গ্রিডের (উপকেন্দ্র) রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ছিল। সেজন্য আমরা গতকাল ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইকবাল রোডের ফিডারটির (সঞ্চালন লাইন) লোড আওরঙ্গজেব ফিডারে চাপিয়ে দেই। আজ সোমবার সকালে ওই লোড অবমুক্ত করতে যায় একটি কারিগরি দল। ডিপিডিসির লাইনম্যান জামাল খন্দকার ইকবাল রোডের ফিডারে না উঠে আওরঙ্গজেব ফিডারে উঠে কাজ করতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। 

এতে তাঁর ডান হাতের কব্জি ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। মুমুর্ষু অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

তারিকুল ইসলাম দাবি করেন, ইকবাল রোডের ফিডারটি শাটডাউন দেওয়া ছিল। জামাল খন্দকার কেন সেই ফিডারে না উঠে আওরঙ্গজেব ফিডারে উঠলেন, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

জামাল খন্দকারের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি পরিবার নিয়ে মোহাম্মদপুরের শেখেরটেকে বসবাস করেন। তাঁর এক ছেলে এক মেয়ে।

বার্ণ ইউনিটে আহত বিদ্যুৎকর্মীর ছেলে মো. জাহিদ হাসান বলেন, আমার বাবা যে ফিডারে বিদ্যুতায়িত হয়েছেন সেটি তো শাটডাউন দেওয়া ছিল। তাহলে সেখানে বিদ্যুৎ কীভাবে এলো?  আমার বাবা কারো ব্যক্তিগত কাজ করার জন্য ডিভিশনের কারিগরি দল নিয়ে যাননি। ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশেই ওখানে গিয়েছিলেন। দায় এড়ানোর জন্য প্রকৌশলীরা গল্প ফেঁদেছেন। জাহিদ আরো বলেন, আমার বাবার একটি হাত কেটে ফেলা হচ্ছে। শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। আমাদের পরিবারের এখন কী হবে? এর দায় নেবে কে?

বিষয়টি জানতে শ্যামলী ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. হাসান শেখ ও ফিডার ইনচার্জ সহকারী প্রকৌশলী কে এম এইচ হায়াৎকে দিনভর মুঠোফোনে কল করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি।

ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলাম সোমবার বিকালে বাংলাস্কুপকে বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ডিভিশন থেকে বিস্তারিত প্রতিবেদন পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে, আহত লাইনম্যান জামাল খন্দকারকে হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী পলাশ মিয়া মুঠোফোনে জানান, আওরঙ্গজেব ও ইকবাল রোড ফিডারটি শাটডাউন দেওয়া ছিল জেনেই জামাল আওরঙ্গজেব ফিডারে কাজ করতে উঠেছিলেন। কিছু বুঝে উঠার আগেই তিনি বিদ্যুতায়িত হন। পলাশ মিয়া পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেন- বিদ্যুৎ সঞ্চালন চালু রয়েছে জানলে কোনো বিদ্যুৎকর্মী কি সেখানে হাত দিবেন? 

উল্লেখ্য, বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে সিদ্ধিরগঞ্জে ডিপিডিসি সাউথের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ডাইরেক্ট ওভারহেড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনে (ফিডার) কাজ করার সময় নিহত হন মো. নজরুল ইসলাম (৫৫)। আহত হন আরো দুই বিদ্যুৎকর্মী। এর আগে চলতি বছর সিদ্ধিরগঞ্জ, মানিকনগর ও মগবাজারের আরো তিন বিদ্যুৎকর্মী একইভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন। এছাড়া এ বছরই রাজধানীর পরীবাগ ডিভিশনে কাজ করার সময় এক বিদ্যুৎকর্মী আহত হয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটলেই গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। আর কমিটির প্রতিবেদনে প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া হয়। কারিগরি ত্রুটি থাকলে তা-ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় না। আবার, কাজ করার সময় মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা উপস্থিত থাকেন না। তার উপরে রয়েছে বিদ্যুৎকর্মীদের অসচেতনতা। এতে করে মূল সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। তাই দিন দিন বিদ্যুৎকর্মীদের বিদ্যুতায়িত হওয়ার ঘটনা বেড়েই চলেছে।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/একেএস/এইচএইচ/এসকে

অমিত-রাহুলের সঙ্গে ফেঁসে যাচ্ছেন আরো দুই প্রকৌশলী
অমিত-রাহুল সিন্ডিকেটকে বাঁচাতে তৎপর প্রভাবশালীরা!
​সঞ্চালন লাইনে কাজ করতে গিয়ে আবারো প্রাণ গেল বিদ্যুৎকর্মীর


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ