১০০ কোটি টাকা ঘুষ: ‘ট্রান্সকম’ সিইওর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০১-১২-২০২৫ ১১:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০১-১২-২০২৫ ১১:৪৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী (সিইও) সিমিন রহমানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রভাব খাটিয়ে হত্যা ও শেয়ার কেলেঙ্কারি ও প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে দায়ের করা চারটি মামলা ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যে শেখ হাসিনাকে এই অর্থ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে দুদক একজন উপপরিচালককে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাবসহ আর্থিক তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখার উপপরিচালক কামরুজ্জামানের স্বাক্ষরে গত ৫ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়—ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, শেয়ার জালিয়াতি ও প্রতারণার একাধিক মামলা ধামাচাপা দিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১০০ কোটি টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, অভিযোগটির অনুসন্ধানের জন্য এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা এবং বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখার পরিচালককে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান কাজ শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। অনুসন্ধান চলাকালে কোনও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধকরণ বা সম্পদ-সম্পত্তি ক্রোকের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত আকারে কমিশনকে জানাতেও চিঠিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে এসব মামলা হয়েছিল ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী (সিই্ও) সিমিন রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। ২০২০ সালের ১ জুলাই ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমান মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী শাহনাজ রহমান গ্রুপের চেয়ারম্যান হন। বড় মেয়ে সিমিন রহমান হন সিইও। কিন্তু লতিফুর রহমানের ছোট মেয়ে শাযরেহ হক বড় ভাই আরশাদ ওয়ালিউর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় ২০২৪ সালের ২১ মার্চ গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বড় বোন সিমিন রহমানের পাশাপাশি তার ছেলে ও ট্রান্সকম গ্রুপের হেড অব ট্রান্সফরেশন যারাইফ আয়াত হোসেনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। এর আগে মা ও বোনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি আত্মসাৎ, অবৈধ শেয়ার হস্তান্তরসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরেকটি মামলা দায়ের করেন তিনি।
২০২৩ সালের ১৬ জুন ঢাকার গুলশানের বাসায় নিজের শোবার ঘরে মৃত অবস্থায় আরশাদ ওয়ালিউর রহমানকে পাওয়া যায়। পরে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর এ ঘটনায় বড় বোনের বিরুদ্ধে ভাইকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন শাযরেহ হক। তিনি এই মামলাসহ সে সময় পরিবারের সদস্যসহ ট্রান্সকম গ্রুপের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেন।
আগের তিন মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, সম্পত্তি দখল ও অবৈধভাবে শেয়ার হস্তান্তরের অভিযোগ এনেছিলেন শাযরেহ। যাতে আসামি করা হয়েছিল তার মা, বোন, ভাগ্নেসহ ৮ জনকে। ওই মামলায় ট্রান্সকমের পাঁচ জন কর্মকর্তা গ্রেফতারও হয়েছিলেন। সে সময় এই তিন মামলার সূত্র ধরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ট্রান্সকম গ্রুপের গুলশানের হেড অফিস থেকে বেশ কিছু নথি জব্দ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের মহাপরিচালক (বিশেষ তদন্ত) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী বলেন, ‘অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততা, ব্যাংক হিসাব এবং অন্যান্য আর্থিক বিষয়গুলোর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।’
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স