টাঙ্গাইলে বিএনপির ১১ নেতার পদত্যাগ
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৫-১১-২০২৫ ০৬:১০:০৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-১১-২০২৫ ০৬:১০:০৯ অপরাহ্ন
মঙ্গলবার পদত্যাগ করা ছয় নেতা। ছবি : সংগৃহীত
টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার অভিযোগ এনে দলের ১১ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) গভীর রাতে পাঁচজন ও মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বেলা দুইটার মধ্যে আরও ছয়জন তাদের পদত্যাগপত্র ফেসবুকে পোস্ট করেন।
এ ছাড়া একই অভিযোগ এনে সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আরও দুই শতাধিক পদধারী নেতা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সাজু।
সোমবার রাতে একযোগে পদত্যাগ করা পাঁচ নেতা হলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাসেদ বলেন, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল মান্নান, বিএনপির সদস্য আশরাফুল আলম, গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুর রউফ এবং বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লতিফ মিয়া।
অন্যদিকে মঙ্গলবার বেলা দুইটা পর্যন্ত যারা পদত্যাগ করেছেন, তারা হলেন সম্প্রতি অব্যাহতি পাওয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সাজু, গজারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব মো. মজিবর ফকির, গজারিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মো. রবিউল আউয়াল, সদস্যসচিব মো. বিপ্লব, একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদ, দাড়িয়াপুর ইউনিয়ন যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান।
আহমেদ আযম খান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-৮ আসনে এবার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী। তিনি এর আগে ২০০১ ও ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাসেদ গণমাধ্যমকে বলেন, কিছুদিন ধরে লক্ষ করছি, আযম খান আমাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন না করে ভোট পাওয়ার আশায় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের গুরুত্ব বেশি দিচ্ছেন। তাঁদের সামনের সারিতে চেয়ার দিচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে নেতা আমাদের বহিষ্কারের হুমকি দিচ্ছেন।
সম্প্রতি দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাজাহান সাজু বলেন, আহমেদ আযম খান গত বুধবার টাঙ্গাইল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক খালেক মণ্ডলকে হুমকি ও গালাগাল করেছেন। গত রোববার রাতে মুক্তিযুদ্ধের ৫৪ বছর পর হঠাৎ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রচার করেছেন। গত ১৭ বছর দলের জন্য জেলজুলুম খেটেছি। আওয়ামী লীগের নির্যাতন সহ্য করেছি। তিনি সেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পুনর্বাসন করছেন। তাদের সামনের সারিতে স্থান দিচ্ছেন। নেতার এসব কর্মকাণ্ডে আমরা অপমানিত বোধ করছি। আমরা আহমেদ আযম খানের দলীয় মনোনয়ন বাতিল দাবি করছি। তা না হলে আজকালের মধ্যে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আরও দুই শতাধিক পদধারী নেতা সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগ করবেন। ইতিমধ্যে তাঁরা আমার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে, বিএনপির বিরুদ্ধে, ধানের শীষের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। জনগণ এবার ঐক্যবদ্ধ আছে, কোনো ষড়যন্ত্রই ধানের শীষের বিজয় ঠেকাতে পারবে না।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স