রিটার্নিং অফিসার ইসির নিজস্ব নিয়োগে হওয়া উচিত : মঈন খান
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৯-১১-২০২৫ ০৭:৪৭:৫৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৯-১১-২০২৫ ০৯:০২:২৩ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে দলটির পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সংলাপে অংশ নেয়।
এ সময় ড. আবদুল মঈন খান নির্বাচনী আচরণবিধি, প্রযুক্তি, স্বাধীনতা ও রিটার্নিং অফিসার নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
সংলাপে ড. মঈন খান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সুসংহত করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর একটাই দায়িত্ব-নিয়ম মেনে নির্বাচন করা। তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি প্রতিপালনে সব দলকে দায়িত্বশীল হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই করা নয়; স্বাধীনতা সবসময় কিছু নিয়মের মধ্যে থাকে।
অঙ্গীকারনামা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে বহু নির্বাচনে অংশ নিলেও এ ধরনের অঙ্গীকারনামা দিতে হয়েছে বলে তার মনে পড়ে না। এ ধরনের কাগজে স্বাক্ষর করানোতে কোনো পরিবর্তন আসবে না যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে। তাই নির্বাচন কমিশনকে অতিরিক্ত জটিলতা না বাড়িয়ে প্রক্রিয়াটি সহজ রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রযুক্তি ব্যবহার ও এআই–সোশ্যাল মিডিয়ার ভুল তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাক-স্বাধীনতা আছে বটে, তবে তার অপব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। “ফ্রিডম ইজ নট অ্যাবসলিউট”-উল্লেখ করে তিনি দায়িত্বশীল ব্যবহারের দিকে ইঙ্গিত করেন।
সংলাপে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, লিঙ্গ-বৈষম্যহীনতা এবং ধর্মকে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহার না করার বিষয়েও সমর্থন জানান তিনি। ধর্মীয় উপাসনালয়কে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার না করার পক্ষে তার স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।
সবশেষে নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করে ড. মঈন খান বলেন, সরকারের কাছ থেকে ‘লোকবল ধার’ না নিয়ে ইসির নিজস্ব রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা উচিত। তার মতে, ইসির ভেতরের জনবল দিয়ে এ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে।
আবদুল মঈন খান বলেন, নির্বাচনে কয়েক লাখ নির্বাচন কর্মকর্তা প্রয়োজন। ইসির এত লোকবল নেই। কিন্তু ইসির যতটুকু জনবল আছে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে। ৩০০ আসনে সরকারের কাছ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহাকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ধার করে আনা হয়। ইসির এটুকু জনবল আছে।
ইসির উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, একবার সাহস করে এই সিদ্ধান্ত নেন যে রিটার্নিং অফিসার আপনাদের নির্বাচন কমিশন থেকে থাকবে। অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার আপনাদের নির্বাচন কমিশনের ডেডিক্যাটেড লোকেরা হবেন। এই একটা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে।
এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে শক্ত অবস্থানে থেকে নিজেদের সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করার আহ্বান জানান তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। এর অংশ হিসেবে আজ দুপুরে নির্বাচন ভবনে বিএনপি, নাগরিক ঐক্য, গণ অধিকার পরিষদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে সংলাপ করে ইসি।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স