ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​বিদ্যুতের লাইনম্যানও রাজধানীতে বহুতল ভবনের মালিক!

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৯-১১-২০২৫ ০৫:১৭:১৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৯-১১-২০২৫ ০৬:৫৬:১১ অপরাহ্ন
​বিদ্যুতের লাইনম্যানও রাজধানীতে বহুতল ভবনের মালিক! ​ছবি: বাংলা স্কুপ
বিদ্যুৎ বিতরণী সংস্থার লাইনম্যানদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে হরহামেশাই। অল্প-বিস্তর অর্থের বিনিময়ে গ্রাহককে অন্যায় সুবিধা দেয়ার অভিযোগই মেলে বেশি। এই ধরনের দুর্নীতি করে কতখানি অর্থবিত্তের মালিক হওয়া যায়, সেই প্রশ্ন রয়েই যায়। তবে এবার এক লাইনম্যানের খোঁজ মিলেছে, যিনি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন।

নাম তাঁর মো. মিলন মিয়া। ঢাকা পাওয়া ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) লাইনম্যান মেট (পরিচিতি নম্বর: ২১২৬৩) পদে কাজ করছেন তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতি করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক এখন তিনি। রাজধানীতে একটি পাঁচতলা এবং গাজীপুরেও একটি বহুতল ভবন রয়েছে মিলন মিয়ার।

সম্প্রতি তিনি বদলি হয়ে মাতুয়াইল ডিভিশনে যোগ দিয়েছেন। এই ডিভিশনটি পরিচিত অবৈধ অর্থ উপার্জনের 'স্বর্গরাজ্য' হিসেবে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর মিলন মিয়াকে রমনা ডিভিশন থেকে মাতুয়াইল ডিভিশনে বদলি করা হয়। আর মাতুয়াইল ডিভিশনের লাইনম্যান মোহাম্মদ শহিদ উল্লাহকে (পরিচিতি নম্বর- ১৫১১৫) বদলি করে রমনা ডিভিশনে দেওয়া হয়।

সূত্রের দাবি, এক বছরের আগেই বড় অংকের উৎকোচ দিয়ে রমনা থেকে মাতুয়াইলে বদলি হয়ে যান মিলন মিয়া। জানা যায়, মুগদা ডিভিশনের হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা মো. এনায়েত হোসেন (পরিচিতি নম্বর: ১৫৪৫০) ডিপিডিসির এইচআর দপ্তরের ডিজিএম মনিরুজ্জামানের নিকটজন। এই এনায়েত হোসেনের মাধ্যমে চার লাখ টাকা রফাদফায় মাতুয়াইলে বদলি হন মিলন মিয়া। 

সূত্র আরো জানায়, মিলন মিয়া রমনা ডিভিশনে যোগ দেওয়ার আগে মুগদা ডিভিশনে তিন বছরের বেশি সময় কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানি, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তা 'ম্যানেজ' করে ফেলেন মিলন মিয়া। জানা যায়, মুগদা ডিভিশনে অনেক বহুতল ভবনে উচ্চচাপ (এসটি) সংযোগকে পাশ কাটিয়ে নিম্নচাপে (এলটি) সংযোগ দিয়ে বিপুল অংক হাতিয়ে নেন মিলন। রাতারাতি বনে যান আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, রাজধানীর সবুজবাগ থানাধীন দক্ষিণগাঁওয়ের ১ নম্বর সড়কের দাগ নং-৩৫৯৭, বেগুনবাড়িয়া, রাজারবাগ এলাকায় তাঁর নামে একটি বহুতল ভবন রয়েছে। ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগটিও (কাস্টমার নম্বর- ২৫৯৮৮৯৪৯) রয়েছে তাঁর নামে। প্রশ্ন উঠেছে, একজন লাইনম্যান অল্প বেতনে চাকরি করে ঢাকাতে জায়গা কিনে কীভাবে একটি ভবন তুললেন? ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঁচ-ছয় বছর আগে মিলন মিয়া এই জমিটি কিনে ওই বছরই ভবন নির্মাণের কাজে হাত দেন। বর্তমানে পাঁচতলা ভবনটির তিনতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। তিনি নিজেও ওই ভবনে বসবাস করেন। এলাকায় তিনি পরিচিত 'বিদ্যুতের প্রকৌশলী' হিসেবে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রোববার (৯ নভেম্বর) মিলন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে সৎ হিসেবে দাবি করেন। বলেন, আমার ২২ বছরের চাকরিজীবনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। বেতনের টাকা থেকে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে এই জায়গাটি কিনে ভবন নির্মাণ করেছি। এতে দোষের কী আছে? অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুগদা ডিভিশনে কর্মরত অবস্থায় আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো উঠেছিল, তা সবই অপপ্রচার। তদন্ত কমিটি হয়েছিল, কিন্তু তারাও কিছু পায়নি।

মিলন মিয়া আরো বলেন, রমনা থেকে মাতুয়াইলে বদলি হওয়ার জন্য আমি সাবেক নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সোনামনি চাকমা স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। এই যোগাযোগ করিয়ে দেন এইচআর দপ্তরের ডিজিএম মনিরুজ্জামান স্যার। আর ডিজিএম স্যারেরই নিকটজন হলেন মুগদা ডিভিশনের এনায়েত হোসেন। এর বেশি কিছু আমি বলতে চাই না, আপনি বুঝে নেন- এই বলে সংযোগ কেটে দেন।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/একেএস/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ