আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) বর্গফুট নীতিমালার ভিন্নতার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ডিপিডিসির শত শত গ্রাহক। প্রতিদিনই বাড়ছে ভুক্তভোগীর সংখ্যা। খোদ রাজধানীতে এরকম দুর্ভোগের ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। এতে করে ডিপিডিসির মাঠ পর্যায়ের ৩৬টি ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলীরা পড়েছেন গ্রাহকদের তোপের মুখে। এই জনভোগান্তি নিরসনে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, এমন অভিযোগ প্রকৌশলীদের।
ডেসকোর আওতাধীন আবাসিক ভবনগুলোতে ৪ কিলোওয়াট লোড বরাদ্দ দেওয়া হলেও ডিপিডিসি তা দিচ্ছে না। গ্রাহকের চাহিদা না থাকলেও নীতিমালার দোহাই দিয়ে ডিপিডিসি চাপিয়ে দিচ্ছে ৫ কিলো লোড। এ কারণে প্রতিমাসে গ্রাহককে বিদ্যুৎ বিলে দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ডিমান্ড চার্জ। আর এই বাড়তি অর্থ আদায়ের জন্যই ডিপিডিসির বিদ্যুৎ সংযোগের বর্গফুট নীতিমালায় ৪ কিলোওয়াটের স্লাব রাখা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, আবাসিক ভবনের সংযোগ নীতিমালা অনুযায়ী ৮০ কিলোয়াট তদুর্ধ্ব সংযোগগুলোর ক্ষেত্রে গ্রাহককে নিজ স্থাপনায় বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন (ট্রান্সফরমার) স্থাপন করেই আবেদন করতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, ট্রান্সফরমার ও বিতরণী লাইন নিরাপদ রাখতে ডিপিডিসি কর্তৃপক্ষ গ্রাহককে সাবস্টেশন করে সংযোগ নিতে বাধ্য করছে। অর্থাৎ যে গ্রাহকের ভবনের ফ্ল্যাটগুলো ৯০০-১০০০ বর্গফুটের মধ্যে, নীতিমালা অনুযায়ী ৪ কিলোওয়াট করে লোড পাওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে কোনো গ্রাহকের ১৭ থেকে ১৯টি মিটারের মধ্যে লোড ব্যবহার হওয়ার কথা ৭৭ থেকে ৭৯ কিলোওয়াটের মধ্যে। ডিপিডিসি যেহেতু ৪ কিলোওয়াটের কোনো স্লাব রাখেনি, গ্রাহক বাধ্য হয়েই যখন সংযোগ নিতে যায় তখন ওই ভবনেই সর্বমোট লোড চলে আসে ৮২ থেকে ৮৪ কিলোওয়াটের মধ্যে। এতে করে ওই গ্রাহক উচ্চচাপ (এসটি) সংযোগ নীতিমালায় পড়েন, তাকে সাব স্টেশন নির্মাণ ও আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা (১৫০ কেভিএ সাবস্টেশনে ১২০ কিলোওয়াট লোড-এ) খরচ করতে হয়। পরবর্তীতে সোলার স্থাপন, সংযোগের সরকারি ফি ও লাইসেন্সিং বোর্ডের ছাড়পত্র ফি মিলিয়ে প্রায় ১৬ থেকে ১৭ লাখ টাকা খরচ হয়ে যায়। এতে গ্রাহক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। আবার অনেক গ্রাহকের পক্ষে এই ব্যয় বহন করাও সম্ভব হয়ে ওঠে না।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগ লোডের পরিমাণ নির্ধারণ সংক্রান্ত অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিতরণী সংস্থাগুলোর প্রধানদের নিয়ে পর্যালোচনা সভা করেছে। কিন্তু এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি। এতে ডিপিডিসির আওতাধীন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, গ্রাহকদের দুর্ভোগ নিয়ে বাংলাস্কুপ
সাবস্টেশন ব্যবসা চালু রাখতেই সংযোগ নীতিমালায় বৈষম্য শিরোনামে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশের পর ডিপিডিসির পরিচালনা পর্ষদের ৩৮৯তম সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সেখানে বর্গফুট নীতিমালায় ৪ কিলোওয়াটের স্লাব যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হলেও 'রহস্যজনক' কারণে ১৫ দিনেও কোনো দাপ্তরিক আদেশ জারি করা হয়নি।
সংস্থাটির প্রকৌশলীরা ক্ষুব্ধ হয়ে জানান, প্রতিদিনই বিষয়টির সমাধানের জন্য গ্রাহকরা আমাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কিন্তু আমরা কোনো সমাধান দিতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলামের দ্বারস্থ হলেও তিনিও কোনো সমাধান দিচ্ছেন না। এতে করে মাঠপর্যায়ে আমরা যারা কাজ করছি, তাদের প্রতিদিনই গ্রাহকদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে। প্রকৌশলীরা আরো বলেন, বোর্ড মিটিং হয়েছে ১৪ দিন আগে। কিন্তু এখনও কেন কোম্পানি সচিব দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি জারি করা হয়নি। গ্রাহকদের এ হয়রানির দায়ভার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপরও বর্তায়।
এ বিষয়ে জানতে নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) কিউ এম শফিকুল ইসলামকে বুধবার (৫ নভেম্বর) মুঠোফোনে কল দেয়া হলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।
ডিপিডিসির কোম্পানি সেক্রেটারি কে এম সালাহউদ্দিন বুধবার (৫ নভেম্বর) বাংলা স্কুপকে বলেন, ৪ কিলোওয়াট লোডের স্ল্যাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি বাস্তবায়নে কাজ চলমান রয়েছে। তবে কবে দাপ্তরিক আদেশ জারি হবে তা বলতে পারেননি তিনি।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এসকে
সংযোগ নীতিমালায় বৈষম্য নিরসনে বৈঠক ডেকেছে বিদ্যুৎ বিভাগ