ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসির) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের বৈধতা নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ও ডিপিডিসির চেয়ারম্যানকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন ঢাকা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী তাহমিমা মহিমা বাঁধন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) স্বাক্ষরিত লিগ্যাল নোটিশটি বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ডাকযোগে পাঠানো হয়। প্রকৌশলীরা নিয়োগটি বাতিল করে পুনঃনিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
আইনজীবী তাহমিমা গত ২৩ ও ২৬ অক্টোবর একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে ক্ষুব্ধ হয়ে জনস্বার্থে লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান।
এদিকে, লিগ্যাল নোটিশের খবর শুনে রোববার (২ নভেম্বর) ডিপিডিসির প্রধান কার্যালয়ে দিনভর প্রকৌশলীরা ভিড় করেন। তাঁরা জানান, এমডি নিয়োগের মানদণ্ড সংশোধন না হওয়ায় যোগ্যতা থাকা সত্বেও আমরা আবেদন করতে পারিনি। যেহেতু নিযোগ প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি তর্ক শুরু হয়েছে, তাই দ্রুত নিয়োগটি বাতিল করে মানদণ্ড সংশোধনপূর্বক পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন প্রকৌশলীরা।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী জানা যায় যে, বিদ্যুৎ বিভাগ ২২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে স্মারক নং ২৭.০০.০০০০.০৮৮.১১.০০৫.২৪-৪৭৩ এর মাধ্যমে প্রকৌশলী বি.এম মিজানুল হাসানকে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ৩ বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের সুপারিশপত্র ও প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। উক্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সুপারিশ ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত ডিপিডিসির ৩৮৭তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের আলোকে প্রদান করা হয়েছে।
সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে লিগ্যাল নোটিশে আরও বলা হয়, যাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে তিনি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নন, কারণ তিনি কখনও বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল ছিলেন না, তিনি এই বিষয়ে অনভিজ্ঞ এবং নিয়োগ কমিটির লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অর্জনকারী। এমতাবস্থায় বিদ্যুৎ বিতরণ খাতে অভিজ্ঞতাহীন ব্যক্তিকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে কোন যুক্তিতে সুপারিশ ও প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো তা বোধগম্য নয় এবং উক্ত বোর্ড সভার কার্যবিবরণীতে এরূপ কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। অতএব, বোর্ডের সিদ্ধান্ত উল্লেখ পূর্বক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে- ইহা সত্য নয়।
নোটিশে সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ ও মেধা অভিজ্ঞতার ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। মেধা তালিকার শীর্ষ দুই প্রার্থীকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছে তার কোনো কারণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রতিযোগিতা ও মেধার নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করেন ওই আইনজীবী।
আইনজীবী তাহমিমা প্রশ্ন তুলেছেন, লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীকে মেধা অনুসারে মূল্যায়ন করা হয়েছে কিনা? অথবা হবে কিনা? সিদ্ধান্ত পূর্বনির্ধারিত ছিল কিনা?
নোটিশটি পাওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিদ্যুৎ সচিব ও ডিপিডিসি চেয়ারম্যানকে সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বৈধ মেধা শ্রেষ্ঠ প্রার্থীকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের আলোকে হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন দায়ের করা হবে বলে লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করেছেন আইনজীবী তাহমিমা মহিমা বাঁধন।
বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
নতুন এমডি পেল ডিপিডিসি
উপদেষ্টার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ডিপিডিসির এমডি নিয়োগ
এমডি পদপ্রার্থী সাব্বির আহমেদকে নিয়ে আলোচনার ঝড়!
কে হচ্ছেন ডিপিডিসির এমডি?
বিদ্যমান মানদণ্ডেই এমডি নিয়োগ!
এমডি নিয়োগের সার্কুলার ঘিরে ডিপিডিসিতে ক্ষোভ
ঝুলে আছে এমডি নিয়োগের মানদণ্ড সংশোধনী!
শীঘ্রই এমডি পদে নিয়োগের মানদণ্ডে সংশোধনী : বিদ্যুৎ উপদেষ্টা
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের নেতৃত্ব দেবেন প্রকৌশলীরাই