ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সড়কে মৃত্যু থামছে না: আজও ১১ প্রাণহানি!

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৫ ০৭:২৯:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৭-১০-২০২৫ ০৭:৩২:৫৫ অপরাহ্ন
সড়কে মৃত্যু থামছে না: আজও ১১ প্রাণহানি! সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১১ জন নিহত এবং অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। জামালপুরে কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে ইজিবাইকের সংঘর্ষে একই পরিবারের সদস্যসহ চারজনের মৃত্যু, পটুয়াখালীর দশমিনায় অটোরিকশার ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর প্রাণহানি, আর হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাস উল্টে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। এছাড়া বগুড়া, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, যশোর ও টাঙ্গাইলেও পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে আরও কয়েকজনের। প্রতিদিনের মতো সোমবারও দেশের বিভিন্ন সড়কে ঝরে পড়েছে একের পর এক প্রাণ। কিছুতেই থামছে না সড়কের মৃত্যুর মিছিল। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত-

জামালপুর প্রতিনিধি জানান- জামালপুরে কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে  এবং শিশু সহ ৪ আহত হয়েছে। গতকাল  সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে জামালপুর সদরের দিকপাইত এলাকার ইকোনোমিক জোন গেইটের সামনে ক্যাভার্ড ভ্যানের সাথে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ১ জন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরো ৩জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায়  আহত হয়েছে ৪ জন। নিহতরা হলো সরিষাবাড়ি উপজেলার সানাকৈর এলাকার রাশেদ। তিতপল্লা এলাকার চান মিয়া ও সরিষাবাড়ীর উচ্চগ্রামের আরিফা আক্তার পলি এবং অজ্ঞাত এক মহিলা। এ ঘটনায় আহত ৪ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নাজমুস সাকিব দুর্ঘটনার বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, টাঙ্গাইলগামী কাভার্ড ভ্যানের  সাথে জামালপুর শহর গামী ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার সাথে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরো দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় কাভার্ড ভ্যানকে আটক করা হলেও ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে যায়। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান- পটুয়াখালীর দশমিনায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার বেপরোয়া গতির ধাক্কায় ছয় বছর বয়সী মাহুয়া নামের এক প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার ৬ নং বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার এলাকায় ৭৩ নং উত্তর-পশ্চিম গছানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের দশমিনা কালাইয়া সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত মাহুয়া ওই ইউনিয়নের মুন্সিবাড়ির লুৎফর মুন্সির ছোট মেয়ে ও ৭৩ নং উত্তর-পশ্চিম গছানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ছাত্রী। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও মাহুয়া বিদ্যালয়ে আসে। স্কুল ছুটির পর দক্ষিণ পাশের এক দোকান থেকে খাবার কিনতে যাওয়ার সময় দক্ষিণ দিক থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শওকত ওসমান তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুল ছুটির পর নিরাপদে অভিভাবকের হাতে তুলে দেওয়া শিক্ষকদের দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তা মানা হয় না। ছোট ছোট বাচ্চারা একা বাড়ি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনের ধাক্কায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এলাকায় নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে তারা জানান এবং প্রশাসনের কাছে এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। নিহত মাহুয়ার বাবা লুৎফর মুন্সি বলেন, “আমি নিজেও একজন অটোরিকশা চালক। প্রতিদিনের মতো সকালে কাজে বেরিয়েছিলাম। হঠাৎ খবর পাই আমার ছোট মেয়ে মাহুয়া সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে।” দশমিনা থানার ওসি আব্দুল আলীম বলেন, “দুর্ঘটনার বিষয়ে আমরা হাসপাতাল থেকে তথ্য পেয়েছি। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মরদেহ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বগুড়া অফিস জানায়- বগুড়ায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে কাহালু উপজেলার বিবিরপুকুর এলাকায় রহিম তেলের পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম ইলিয়াস হোসেন সিফাত (২৫)। তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলার চক সুকানগাড়ি গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। সম্প্রতি তার বাবা মারা গেছেন। পরিবারের একমাত্র ছেলে সিফাতের একটি ছোট বোন রয়েছে। এছাড়া রোববারই সিফাত ওমরা হজ্ব শেষ করে বগুড়ায় ফিরেছিলেন। তিনি ডালিয়া নার্সিং কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার বলেন, সিফাত মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুতগতিতে বগুড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিবিরপুকুর এলাকায় সামনে থাকা একটি অটোরিকশাকে ধাক্কা দিলে তিনি বাইক থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান-  হবিগঞ্জের মাধবপুরে মাজার জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাদল মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন যাত্রী। সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেজুড়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাদল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বীরপাশা গ্রামের পল্টু মিয়ার ছেলে। আহতদের সবাই একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন মাহফুজ (৩০), সোহেল মিয়া (৩৫), মাসুদ মিয়া (৩০), মনজুর আলী (৩৪), অপু মিয়া (৩২), বাহার মিয়া (৩৮), রশিদ (৩৫), সাজাহান(৩৯) মুক্তার,(২৫) বাদশা(২৮) লালখা(৩৫) হেলেনা (৩৫) ও সাত্বার মিয়া (৪০)। বাকিদের নাম জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের সূত্রে জানা যায়, তারা সবাই রোববার হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার এক মাজারে জিয়ারত শেষে ভোরে ‘দিগন্ত পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাসটি যখন মাধবপুর উপজেলার বেজুড়া এলাকায় পৌঁছায়, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ট্রাক বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে বাসের নিচে অনেক যাত্রী আটকা পড়েন এবং বাদল মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মাধবপুর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কমল কৃষ্ণ জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুতর কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মাধবপুর থানা পুলিশের এসআই প্রণয়েল চাকমা বলেন, ‘খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।’

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান- গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মিরাজ মিয়া নামে (৪৫) এক মটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সদর উপজেলার ডুমদিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মিরাজ মিয়া বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার আব্দুল জব্বার মিয়ার ছেলে। গোপালগঞ্জের ভাটিয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশের এসআই রোমান মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, ঢাকাগামী দ্রুতগতির একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে চালক মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে দাঁড়ানো অপর একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা লাগায়। এতে মোটরসাইকেল চালক গুরুতর আহত হন।  পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের পক্ষে পুলিশের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহ পোস্টমর্টেম ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

যশোর প্রতিনিধি জানান- যশোরে ট্রাকের ধাক্কায় গৌতম রায় (৫০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের পদ্মবিলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত গৌতম রায় মণিরামপুর উপজেলার পাচাকড়ি গ্রামের জ্ঞানেন্দ্র রায়ের ছেলে। নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ওসি ফজলুল করিম জানান, সকালে গৌতম রায় মহাসড়কের পাশে হাঁটছিলেন। এ সময় দ্রুতগামী একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি সড়কের পাশে পড়ে ছিলেন। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ গৌতমকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওসি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও চালককে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান- ফরিদপুরে দলীয় অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকচাপায় মোসাদ্দেক আহমেদ (৪২) নামে এক জামায়াত নেতা নিহত হয়েছেন। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুর পৌরসভার বদরপুর এলাকায় রোববার (২৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  মোসাদ্দেক ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখাঁরহাটের ইসাহাক কাজীর ছেলে। তিনি ফরিদপুর পৌর জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি এবং ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী ছিলেন। হাইওয়ে পুলিশের জানায়, মোসাদ্দেক ও আরেক ব্যাক্তি মোটরসাইকেলে করে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর থেকে ফরিদপুর  শহরের  দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বদরপুর এলাকায় পৌঁছালে একটি অজ্ঞাত ট্রাক তাকে ধাক্কা দিয়ে মোটরসাইকেলসহ চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়  খবর পেয়ে করিমপুর হাইওয়ে থানা-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় জামায়াতের শূরা সদস্য ও ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব বলেন, রোববার ফরিদপুর সদরের কানাইপুরে আমার নির্বাচনী প্রোগ্রাম শেষ করে কানাইপুর থেকে ফরিদপুরের বাসায় ফেরার পথে মোসাদ্দেক দুর্ঘটনায় নিহত হন। করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, একটি অজ্ঞাত ট্রাক মোসাদ্দেককে বহনকারী মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। ট্রাকটি শনাক্ত ও চালককে আটক করার চেষ্টা চলছে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান- টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে রাশেদ মিয়া (৩০) নামের চালক নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার কালিহাতী থানার পশ্চিম পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদ মিয়া নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার নাউয়াপাড়া গ্রামের মোতাহের হোসেনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি বড় কাভার্ডভ্যান হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা একটি বিশাল বটগাছে আঘাত হানে। এতে চালক রাশেদ মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কালিহাতীর এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মাহবুব হোসেন বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাভার্ডভ্যানটি থানার পাশে গাছে ধাক্কা দিলে চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও কালিহাতী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ