ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের ভিড়

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৫ ০২:৩৯:২৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৫ ০২:৩৯:২৪ অপরাহ্ন
​কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের ভিড় ​ছবি: সংগৃহীত
হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এখানকার আবহাওয়া ঠাণ্ডা। শীতকালের চার মাস জুড়েই এখানকার তাপমাত্রা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকে। ফলে শীত সাধারণ পর্যটকের কাছে হয়ে পড়ে উপভোগের বিষয়। ফলে মৌসুম শুরু হতেই দলবেঁধে আগমন ঘটছে পর্যটকদের।

জানা যায়, গত এক সপ্তাহ ধরে দেখা মিলছে না কাঞ্চনজঙ্ঘার। দিনেরাতে তাকে ঘিরে ধরে রেখেছে মেঘমালা। একটি মেঘ সরে গেলে আরেকটি মেঘ এসে সেই জায়গা দখল করে নিচ্ছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও সমতলের চা বাগান, রূপপুরের কাজে অ্যান্ড কাজীর আনন্দ ধারা, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, সীমান্ত নদী, মহানন্দার নীল নুড়ি, পাথর উত্তোলনের দৃশ্য, নদীর তীরে দাঁড়িয়ে ভারতীয় সার্চ লাইটের তির্যক আলোক রশ্নি, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো ও তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নারসহ নানা দর্শনীয় স্থান দেখতে ভিড় করছেন পর্যটকরা।

এসবের বাইরে সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে তেঁতুলিয়ার ‘তেতুলতলা’। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তেঁতুলিয়ার প্রাণকেন্দ্র চৌরাস্তা বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী ঐতিহাসিক তেঁতুল গাছ এখন সেজেছে নতুন সাজে। 

স্থানীয়রা বলছেন, অনেক বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই তেঁতুল গাছ স্থানীয়দের কাছে যেমন ঐতিহ্য, ছায়া ও বিশ্রামের প্রতীক ছিল, পর্যটকদের কাছেও এটি এক ধরনের ঐতিহাসিক কৌতূহল। কিন্তু দীর্ঘদিন তেমন গাছটি অবহেলিত থাকায় গাছটির প্রতি তেমন কোনো নজর দেয়া হয়নি। সম্প্রতি তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গাছটির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পাশাপাশি নেয়া হয় ব্যতিক্রমী আলোকসজ্জার উদ্যোগ। এখন প্রতিদিন সন্ধ্যা নামতেই গাছটি ভরে ওঠে নানা রঙের ঝলমলে আলোয়। এই দৃশ্য পর্যটকদের নজর কেড়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে বর্ণিল তেঁতুল গাছের ছবি। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা সুমন রাব্বি নওশাদ জানান, আগেও তেঁতুলিয়ায় এসেছিলাম। তখন এই তেঁতুলিয়া ছিল অবহেলিত। তেমন কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এবার এসে দেখি একেবারে অন্যরকম রূপ। রাতে তেঁতুল তলায় বর্ণিল আলো জ্বললে মনে হয় না এটি সেই পুরনো গাছ। যেন নতুন এক সৃষ্টি। খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। মনে হয় সারারাত এখানে বসে সৌন্দর্য উপভোগ করি। তবে এবার তেঁতুলিয়ার মূল আকর্ষণ কাঞ্চনজঙ্ঘা নজরে আসেনি। বন্ধুবান্ধব নিয়ে ভোররাত থেকে তেঁতুলিয়ার ঐতিহাসিক ডাকবাংলায় হাজির হলেও মেঘের কারণে ঢেকে ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা। 

পর্যটন নিয়ে কাজ করা তেঁতুলিয়ার নর্থবাংলা ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজমের পরিচালক আহসান হাবিব বলেন, এই ঐতিহাসিক গাছটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল। উপজেলা প্রশাসন সেটিকে নতুন সাজে সাজিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। আমরা চাই, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে তেঁতুলিয়ার পর্যটন শিল্প আরও সমৃদ্ধ হোক।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, স্বাধীনতার তীর্থ ভূমি তেঁতুলিয়া ডাক বাংলোর অবয়ব প্রজন্মের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক তেঁতুল গাছটি এই অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্মৃতি বহন করে। দিনে মানুষ গাছের ছায়ায় বসে, আর রাতে আলোকসজ্জার কারণে উপভোগ করে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। আমরা গাছটির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছি এবং আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করেছি। পর্যটকরা এতে আনন্দ পাচ্ছেন। 

তিনি আরও জানান, তেঁতুলিয়ার পর্যটনকে নতুন রূপ দিতে শুধু তেঁতুল গাছ নয়, পাশাপাশি আরও নানা প্রকল্প নেয়া হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার ও মহানন্দা পার্ক ঢেলে সাজাচ্ছি। মহানন্দা নদীর ধারে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। শিশুদের জন্য নির্মিত হচ্ছে আলাদা পার্ক। আমরা চাই, তেঁতুলিয়া পর্যটকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গন্তব্য হয়ে উঠুক। 

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ