ইলিশের আশায় লোকসানের বোঝা নিয়ে ফের সাগর-নদীতে ছুটছেন কলাপাড়ার জেলেরা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৫-১০-২০২৫ ০৬:৫২:৪৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-১০-২০২৫ ০৬:৫২:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
বড় ট্রলারে ১১ জন জেলে নিয়ে এবছর গভীর সাগরবক্ষে ইলিশসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ ধরেছেন জেলে সুমন হাওলাদার। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞার পরে ২২ দিনের নিষোজ্ঞার আগ পর্যন্ত ১৬ বার সাগরে ট্রিপ দিয়েছেন। লাভ-লোকসান কিছুই হিসাবে নিতে পারেননি। তবে তিন লাখ টাকা দেনায় আছেন তিনি। তাই বড় বোটের মাছ ধরা ক্ষ্যান্ত দিয়েছেন। এখন রাবনাবাদ নদীতে ছোট বোটে চারজনে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়েছেন। এসএসসি উত্তীর্ণ ছেলেসহ নিজে অপর দুইজনকে নিয়ে ফের মধ্যরাতে নদীতে নামবেন-এমন প্রস্তুতির কথা জানালেন সুমন। ৭-৮ বছরের পেশায় এখন আর কোন আয়েশ নেই। সাগর-নদীতে ইলিশ যেন মিলছে না।
কুয়াকাটার মাঝিবাড়ি এলাকার রাজ্জাক মাঝি জানালেন, এখন বলতে গেলে ইলিশের মৌসুম শেষ। লাভ-লোকসান নেই। তবে এবছর আর সাগরে নামবেন না বলে চরম হতাশা ব্যক্ত করলেন তিনি। একই দশায় লেম্বুরবন থেকে কাউয়ারচর পর্যন্ত সাগরের অগভীর এলাকায় ইলিশ ধরা সকল জেলের। অন্তত পাঁচ হাজার পরিবারের জীবিকা চলে সাগরের অগভীর এলাকায় মাছ ধরে। সবাই যেন এবারে ধার-দেনায় কাহিল হয়ে আছেন। জানালেন আবার আজ রাতে নামছেন। যদি ভাগ্য সহায় হয় তাহলে ইলিশ ধরা পড়তে পারে বলে অধিকাংশের মত।
রাবনাবাদ চ্যানেলে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ ধরেন জেলে আবিদ হোসেন। জানালেন, ১৪ বছর এই কাজ করছেন। চারজনে মিলে ডেইলি ফিশিং করেন। কিন্তু টানা চারটি বছর ইলিশের মন্দাভাব চলছে। তার ভাষায়, ‘যেন আকাল চলছে। এবছর আরও বেশি কমে গেছে।’ তিন-চার লাখ টাকার দেনার বোঝা নিয়ে ফের মধ্যরাতে নামবেন নদীতে।
তিন লাখ টাকার দেনায় থাকা আলাউদ্দিন মাঝিও জানালেন ইলিশের ভয়াবহ সংকটের কথা। ১৩ বছরের পেশায় এবারই সবচেয়ে বেশি দুর্দিন বলে মন্তব্য তার। জেলে আশরাফ হাওলাদারের ভাষ্য, ‘চ্যানেলের সাগরের প্রবেশমুখ ভরাট হওয়ায় ইলিশ চ্যানেলে খুব কম ঢোকে।’
তারপরও দীর্ঘ সাগর কিনার ও রাবনাবাদ পাড়ের অন্তত ১৫ হাজার জেলে পরিবারসহ গভীর সাগরবক্ষে মাছ শিকারের জন্য রাতেই ছুটছেন হাজারো নৌযান। ট্রলারের মালিক, জেলে, ভাগিদার, ঠিকাচুক্তির জেলেসহ আড়ত মালিক সবাই ইলিশের আশায় সাগর নদীপানে চেয়ে আছে। অনেকে বিশেষ মিলাদ, দোয়ার আয়োজনও করেছেন। নতুন আশায়, নতুন স্বপ্ন্ নিয়ে সাগরপানে ছুটছেন হাজার হাজার জেলে। জেলেদের অভিযোগ, অবৈধ ট্রলিংবোটও পুনরায় মেরামত করে সাগরে নামার সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে। আলীপুরের আবুল কোম্পানি এমনটি করেছেন বলে অসংখ্য জেলের খোলামেলা অভিযোগ। ওই ট্রলিংয়ে মাছের পোনা থেকে শুরু করে বংশ ধ্বংস করে দিচ্ছে। তবে বহু লোকজন বলেছেন, সন্ধ্যার পর থেকেই বহু বোট সাগরপানে ছুটেছেন। মধ্যরাতের অপেক্ষায় আর থাকছেন না।
এভাবে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এবারে শতকরা ৯০ ভাগ জেলে লোকসানের বোঝা নিয়ে ফের ইলিশের আশায় সাগরনদীতে আবারও তৃতীয় দফায় নেমে পড়ছেন। কারণ ভাগ্য তাঁদের সুপ্রসন্ন হতেও পারে। মিলতে পারে ইলিশ।
অপরদিকে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রাবনাবাদ চ্যানেলে মাছ ধরায় শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে ২৬ জেলের অর্ধলক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেছেন কলাপাড়ার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক।
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স