ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড

১২ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা, রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৫ ০৪:১৭:১২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৫ ০৬:৩৭:৫৫ অপরাহ্ন
১২ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা, রপ্তানি খাতে বড় ধাক্কা ​ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লজিস্টিক বিভাগে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ রপ্তানি পণ্য ও কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ী নেতাদের আশঙ্কা এ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা) ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। শনিবার বিমানবন্দরে লাগা আগুন নির্বাপণে সময় লাগে প্রায় ২৭ ঘণ্টা। আগুনের কারণে বিমানবন্দরের লজিস্টিকস অপারেশন বন্ধ হয়ে যায় এবং সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয় ফ্লাইট চলাচলও। এছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে আহত হন কমপক্ষে ৩৫ জন। ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও তদন্তাধীন।

বাংলাদেশ বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। পোশাক খাত থেকে বছরে দেশের আয় হয় প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার। বিমানবন্দরের এই কার্গো ভিলেজটি বিশেষ করে বড় ধরনের রপ্তানি পণ্যের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে পোশাক, কাপড়, ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্য ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যসহ বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ছাই হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এতে রপ্তানিকারকদের বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, ‘কারখানা ও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নমুনা ও অর্ডারকৃত পণ্য আগুনে নষ্ট হয়েছে। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক সুযোগও হারাতে পারে।’

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল এয়ার এক্সপ্রেস অ্যাসোসিয়েশন বিবিসিকে পাঠানো এক ই-মেইলে ক্ষতির পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বা তার চেয়ে বেশি। বিজিএমইএ ইতোমধ্যে ক্ষতির সম্পূর্ণ পরিমাণ নির্ধারণের জন্য তার সকল সদস্যকে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যের একটি তালিকা জমা দিতে বলেছে।

এ অগ্নিকাণ্ডটি এক সপ্তাহে দেশের তৃতীয় বড় অগ্নিকাণ্ড। এর আগে মঙ্গলবার ঢাকায় একটি গুদাম আগুনে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে আরেকটি অগ্নিকাণ্ডে সাততলা একটি পোশাক কারখানা পুড়ে যায়।

ঘন ঘন বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ তিনটি অগ্নিকাণ্ডকেই পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করছেন। এর জবাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ড নতুন নয়। জনবহুল এই দেশে নিত্য অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার অন্যতম কারণ হিসেবে দুর্বল অবকাঠামো, নিরাপত্তা বিধিমালা মানতে অবহেলা এবং তদারকির অভাবকে দায়ী করা হয়।

অতীতে এমন বড় ধরনের ঘটনার কারণকে রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরকে আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। দলগুলো প্রায়ই অভিযোগ করেছে, প্রতিপক্ষ এসব ট্র্যাজেডিকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য কাজে লাগায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এবার জল্পনা-কল্পনার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের তদন্তহীন অভিযোগের ইতিহাস, যেখানে কখনও কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি।

সূত্র: বিবিসি
 
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে

​শাহজালালের আগুনে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি: ইএবি


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ