ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​রাতে জেগে ওঠেন জেলেরা, ভোরে বসে ইলিশের বাজার

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৫ ১২:০০:১৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-১০-২০২৫ ১২:০০:১৬ অপরাহ্ন
​রাতে জেগে ওঠেন জেলেরা, ভোরে বসে ইলিশের বাজার সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
ইলিশ শিকার ও বেচাকেনায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে দিনে তৎপর থাকে প্রশাসন। রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে অরক্ষিত হয়ে পড়ে পদ্মা ও মেঘনা নদী। জেগে ওঠেন জেলেরা। দলবেঁধে নেমে পড়েন ইলিশ শিকারে। সারারাতে ইলিশ শিকার করে ভোরের দিকে নদীপারে অস্থায়ী বাজার বসান। দূরদূরান্তের ক্রেতারা এসে ইলিশ কিনে নিয়ে যান। এমন চিত্র মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ছিডারচর ও বাবুরচরের।

এই এলাকার মতো মুন্সীগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলা ঘেঁষা পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে মা ইলিশ ধরে অস্থায়ী হাটে বিক্রি করছে জেলেরা। দিনের বেলায় প্রশাসনের অভিযান ও তৎপরতা থাকলেও রাতে অরক্ষিত হয়ে ওঠে নদী। নিরাপত্তাজনিত কারণে রাতে অভিযান চালাতে পারে না স্থানীয় প্রশাসন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই মা ইলিশ ধরার উৎসবে মেতে ওঠেন জেলেরা। জেলা সদরের আধারা ইউনিয়নের চরআব্দুল্লাহ, কালীরচর ও বকচর গ্রাম-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা কিছুতেই থামছে না। প্রতিদিন ৩০০-৪০০ কেজি মা ইলিশ ধরছেন ও বিক্রি করছেন জেলেরা। মেঘনা তীরের অস্থায়ী হাটগুলোতে প্রতিদিনই ছুটে যাচ্ছেন পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা। চরআব্দুল্লাহ, বকচর, কালীরচর গ্রাম ঘেষাঁ মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকারে এখন সক্রিয় অন্তত ২০০ জেলে।

গত ১৫ অক্টোবর লৌহজং উপজেলার লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের তেউটিয়া-ঝাউটিয়া গুদারাঘাট দিয়ে পদ্মার চর থেকে ইলিশ কিনে লোকজনকে ফিরতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, লৌহজং-তেউটিয়া ইউনিয়নের কোরহাটি, শাহিনহাটী, পাইকারা, তেউটিয়া চরে ইলিশ বিক্রির হাট বসানো হচ্ছে প্রতিদিন। একই উপজেলার জশলদিয়া বাজারের পেছনে ডালিম গাজীর বাড়ির সামনে নদীর তীরে রাত ৩টার পর থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মা ইলিশ নিয়ে সাত-আটটি ট্রলার ভেড়ে। এ ছাড়া শনিবার সকালে লৌহজংয়ের ঘোড়দৌড় বাজারের বরফকল থেকে বরফ নিয়ে পদ্মার চরে যেতে দেখা গেছে, যা দিয়ে শিকার করা ইলিশ সংরক্ষণ করা হবে।

জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে, মা ইলিশ রক্ষায় ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর পর থেকে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে অভিযান চলমান রয়েছে। প্রতিদিনই জেলার বিভিন্ন স্থানে মা ইলিশ জব্দ ও আটকের পর জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে।

ইলিশের অভয়রাণ্য মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ১৪ দিনে পৃথক অভিযানে শতাধিক জেলেকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুই কোটি মিটারের অধিক কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এরপরও অসাধু লোকজনের অপতৎপরতায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের সফলতা ম্লান হয়ে পড়েছে। অপরিকল্পিত অভিযান, অবৈধ কারেন্ট জাল তৈরি ও বিক্রি বন্ধে অভিযান না করা এবং প্রশাসন-আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়হীনতায় ইলিশ শিকার ও বেচাকেনা বন্ধ হচ্ছে না। তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, মা ইলিশ শিকারে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত। কিন্তু কিছু সাধু জেলে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করছেন।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, শনিবার লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদী-সংলগ্ন বিভিন্ন চর ও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইলিশ মাছ ক্রয় ও বিক্রয়ের অভিযোগে ১০ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া অভিযানের সময় প্রায় আট লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩০-৩৫ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়। একই দিন মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি ইলিশ এবং এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে আটক ব্যক্তিদের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করা হয়। জব্দ ইলিশ মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। জব্দ জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় ও স্থানীয় জনসাধারণকে সতর্ক ও সচেতন করা হয়।
এদিকে মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠে পাঁচ শতাধিক নিষিদ্ধ জাল তৈরির কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কারেন্ট জাল তৈরি ও বিক্রি করছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। 

মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসানের ভাষ্য, গত কয়েক মাসে শহরের উপকণ্ঠে থাকা কারেন্ট জাল তৈরির একাধিক কারাখানায় অভিযান চালিয়ে কয়েক কোটি টাকার জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। মুক্তারপুরসহ আশপাশ এলাকার পাঁচ শতাধিক জাল তৈরির কারখানায় উৎপাদিত অবৈধ কারেন্ট জাল সারাদেশে সরবরাহ হয়ে থাকে। যথেষ্ট বরাদ্দ না পাওয়াসহ একাধিক সমস্যার কারণে এসব কারখানায় নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। তিনি বলেন, ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় বিভিন্ন নদীতে সময় দিতে হচ্ছে। তাই কারেন্ট জাল তৈরির কারখানায় অভিযান চালানো যায়নি। শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ