সন্তান পরীক্ষায় ফেল করেছে, বাবা-মায়ের করণীয়
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
১৬-১০-২০২৫ ০৩:৫১:২৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৬-১০-২০২৫ ০৫:০৪:০৮ অপরাহ্ন
প্রতীকী ছবি
অ্যালেক্স হেলি তার ‘রুটস’ উপন্যাসে বলেছেন, ‘ঠিকঠাকভাবে লেখা হলে কেবল বিজয়ী নয়, বিজিতদের ইতিহাসও মহত্তর হতে পারে।’
আজ চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে। শুধু তাই না অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
আজ যারা ফেল করেছে, তাদের ফেল করার পেছনে ছোট ছোট অনেক কারণ যেমন থাকতে পারে, অনেক বড় কারণও থাকতে পারে। ফেল করা শিক্ষার্থীদের কথা একটু মনোযোগ শোনার চেষ্টা করুন—আপনার এই সহানুভূতিশীল আচরণটুকু তার দায়বদ্ধতা বাড়াতে পারে, তাকে অদম্য করে তুলতে পারে, এবং নতুনভাবে শুরু করার প্রেরণা জোগাতে পারে।
আমরা সাধারণত দেখি যে, ফেল করা শিক্ষার্থীকে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া–প্রতিবেশী ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে চান না।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, ‘পরীক্ষার ফলাফল হলো একটি নির্দিষ্ট সময়ের পারফরম্যান্স, কিন্তু তা কখনোই কারও মেধা বা সম্ভাবনার পূর্ণ চিত্র নয়।’
জার্নাল অব পজিটিভ সাইকোলজির তথ্য ‘ব্যর্থতার পর যারা নিকটজনদের কাছ থেকে কৃতজ্ঞতা বা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পান তারা নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে দ্রুত পান।’
বাবা মায়ের উচিত এ সময় কিছুটা সময় নিয়ে সন্তানের আগ্রহ নিয়ে কথা বলা। তাকে এ কথা বলা যে, নতুন পথ খোঁজার সুযোগ সবসময়ই থাকে।
শিক্ষার্থীর আত্মসম্মান যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদন, ‘কিশোর বয়সে আত্মসম্মান ও মানসিক চাপের ভারসাম্য রাখা ভবিষ্যৎ মানসিক সুস্থতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি।’—সুতরাং সন্তানের আগামীর কথা চিন্তা করে হলেও তার সঙ্গে এমন আচরণ করুন, যাতে তার মানসিক চাপ না বাড়ে।
ফেল করা শিক্ষার্থীর সহানুভূতি দরকার
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহানুভূতির চর্চা করা দরকার। এতে শিক্ষার্থী নিজেও নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে পারবে। কেননা পরিবারের আবেগীয় পরিবেশই নির্ধারণ করে সন্তানের প্রতিক্রিয়া কতটা ইতিবাচক হবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ফেল করা শিক্ষার্থী পরাজয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তাকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য মানসিক সমর্থন দিন। পিতা-মাতা, ভাই–বোন, নিকটাত্মীয়দের পক্ষে সম্ভব হলে ওই শিক্ষার্থীকে একটি উপহার দিন, কাছে বা দূরে কোথাও ঘুরতে নিয়ে যান, তাকে পছন্দের খাবার খাওয়ান।
বাবা-মায়েরা আপনার ফেল করা সন্তানকে আদরমাখা স্পর্শ দিন, বুকে জড়িয়ে নিন। এই আবেগীয় সমর্থনটুকু এখন আপনার সন্তানের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স