উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ অক্টোবর
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
০৯-১০-২০২৫ ০৬:২১:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৯-১০-২০২৫ ০৬:২১:৩৩ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ১৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন দুপুর ২টা ৫০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। ১৯তম সাক্ষী হিসেবে তিনি জবানবন্দিতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পুরো বর্ণনা তুলে ধরেন। দুপুর ২টা ৬ মিনিটে তিনি সাক্ষ্য দিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৌঁছান। তবে এদিন সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ না হওয়ায় আগামী ১৬ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়।
মামলার পূর্ববর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ
এর আগে গত ৫ অক্টোবর নবম দিনের মতো এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়, যেখানে একজন জবানবন্দি দেন। ২৫ সেপ্টেম্বর অষ্টম দিনের মতো তিনজন সাক্ষী, যার মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও ছিলেন, সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাদের জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
১৪ আগস্ট সপ্তম দিনে তিনজন সাক্ষ্য দেন, যার মধ্যে দুজন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্য ছিলেন (কনস্টেবল অজয় কুমার ও কনস্টেবল আবদুর রহমান)। ১১ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ কার্যদিবসে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে সাক্ষ্য দেন রাজধানীর নিউমার্কেটের দোকানের কর্মচারী মো. টিপু সুলতান ও নৌবাহিনীতে মালামাল সরবরাহকারী মো. মনিরুজ্জামান। ৭ সেপ্টেম্বর পঞ্চম দিনের মতো জবানবন্দি দেন তিনজন, যার মধ্যে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি, আনাসকে গুলি করতে দেখা প্রত্যক্ষদর্শী রাব্বি হোসেন ও ব্যবসায়ী আবদুল গফুর।
২১ আগস্ট চতুর্থ দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়, যেখানে শহীদ রাকিব হোসেন হাওলাদারের বাবা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ও বড় ভাই রাহাত হাওলাদার জবানবন্দি দেন। ১৩ আগস্ট তৃতীয় দিনে সাক্ষ্য দেন শহীদ ইয়াকুবের মা রহিমা আক্তার, তার প্রতিবেশী চাচা শহীদ আহমেদ ও শহীদ মো. ইসমামুল হকের ভাই মহিবুল হক। ১২ আগস্ট দ্বিতীয় দিনে জবানবন্দি দিয়েছেন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আঞ্জুয়ারা ইয়াসমিন ও শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদের বাবা শেখ জামাল হাসান।
১১ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্য শেষে মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ।
অভিযুক্ত আসামিগণ
এ মামলার গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন— শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।
পলাতক আসামিরা হলেন— সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
গত ১৪ জুলাই চানখারপুলের মামলাটির পলাতক চার আসামিসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স