ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​এআই দিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ালে শাস্তির প্রস্তাব ইসির

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০৬-১০-২০২৫ ০৫:২৬:১৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৬-১০-২০২৫ ০৮:৪১:০৫ অপরাহ্ন
​এআই দিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ালে শাস্তির প্রস্তাব ইসির ​ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২’-এর সংশোধনী চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত আরপিওতে এআই বা ডিজিটাল মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য (মিস ইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন) ছড়ালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

তিনি বলেন, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের অনেক আইন আছে। আমরা আরপিওতে নতুন করে একটি ধারা সংযোজন করেছি। যাতে এআই বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভুল তথ্য প্রচার ঠেকাতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আইনের উদ্দেশ্য কেবল শাস্তি নয়, মানুষ যেন বুঝতে পারে। এ কাজ করলে এর পরিণতি আছে।

ইসি কমিশনার আরও বলেন, যদি গণমাধ্যম জনগণকে সচেতন করতে সহযোগিতা করে, তাহলে মানুষ বুঝবে— এআই ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো অপরাধ।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, মিসইনফরমেশন ও এআই-এর অপব্যবহার এখন বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের বিভিন্ন নির্বাচনী কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় দেখেছি— সব দেশই এ সংকটে ভুগছে।

তিনি জানান, জার্মানির সাম্প্রতিক নির্বাচনে ৮৮ শতাংশ ভোটার ভেবেছিলেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। দক্ষিণ আফ্রিকার কমিশন জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় পক্ষগুলো কমিশনের তুলনায় সাড়ে তিন গুণ বেশি প্রস্তুত ছিল। এমনকি রোমানিয়ায় এক পর্যায়ে নির্বাচনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছিল— ডিজিটাল হস্তক্ষেপের কারণে।

সানাউল্লাহ আরও বলেন, বাস্তবতা হচ্ছে, অনেক কনটেন্ট এখন সহজে ছড়িয়ে পড়ছে। মেটা (ফেসবুক) তাদের থ্রেশহোল্ড কমিয়ে দিয়েছে। ফলে ৫০ শতাংশেরও বেশি উৎস ট্রেস করা সম্ভব হয় না— তারা দেশের বাইরে।

তিনি জানান, ইসি ‘গুড ফ্লো অব ইনফরমেশন’ বজায় রাখার নীতি নিয়েছে। অর্থাৎ তথ্য প্রবাহ সীমিত করা হবে না। তবে নভেম্বর থেকে সচেতনতা বাড়াতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করছে কমিশন।

‘মিথ্যা তথ্য যত বাড়ছে, মানুষের মধ্যেও ততটা সচেতনতা তৈরি হচ্ছে,’ বলেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ। ‘এখন অনেকে নিজেরাই যাচাই করে দেখেন তথ্যটি সত্য কি না।’

বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ