যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্য খাদ্য ও ওষুধবাহী জাহাজবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ১৩টি নৌযান আটকে দিয়েছে ইসরায়েলের নৌবাহিনী। তবে বাঁধা অতিক্রম করে গাজার উদ্দেশে এগিয়ে চলছে বহরের ৩০টি নৌযান। বৃহস্পতিবার (০২ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
ফ্লোটিলার আয়োজনকারীরা টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, বহরের বাকি ৩০টি নৌকা এখনও গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোরে তারা উপত্যকাটির উপকূল থেকে ৪৬ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি নৌবাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে গাজার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অন্তত ৩০টি জাহাজ। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এখনো দৃঢ়ভাবে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে এবং গাজার উপকূল থেকে মাত্র ৮৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।
এদিকে, বুধাবার (১ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ফ্লোটিলার ১৩টি নৌযান আটকের তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বার্তায় বলা হয়, হামাস-সুমুদ ফ্লোটিলার বেশ কয়েকটি নৌযান থামিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেসব নৌযানে থাকা যাত্রীদের নিরাপদভাবে ইসরায়েলের বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ছিলেন ফ্লোটিলার নৌযানবহরে। তাকেসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্সবার্তায় এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, গ্রেটা থুনবার্গ এবং তার বন্ধুরা নিরাপদ ও শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন।
আয়োজক সংগঠনের ভাষ্য, অবৈধভাবে চালানো ইসরায়েলি বাধা সত্ত্বেও তারা গাজার অবরোধ ভাঙতে এবং একটি মানবিক করিডর খুলতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাদের দাবি, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় অনাহারে থাকা ফিলিস্তিনিদের জন্য এ নৌবহর খাদ্য ও মানবিক সহায়তা বহন করছে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা জানিয়েছে, তারা আশা করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ মিশনে সমর্থন জানাবে এবং গাজার মানবিক সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবে।
সুমুদ ফ্লোটিলার মুখপাত্র সাইফ আবুকেশেক ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক বার্তায় জানিয়েছেন, গাজামুখী সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে ৩৭ দেশের দুই শতাধিক কর্মীকে বন্দি করেছে ইসরায়েল।
তিনি বলেন, আটক হওয়া নৌযানগুলোতে ৩৭ দেশের ২০১ জন কর্মী ছিলেন। এর মধ্যে স্পেন থেকে ৩০ জন, ইতালি থেকে ২২ জন, তুরস্ক থেকে ২১ জন এবং মালয়েশিয়া থেকে ১২ জন অংশ নেন।
বাংলাদেশের শহিদুল আলম ছাড়াও সুমুদ ফ্লোটিলায় রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক রুহি আক্তার রুহিও।
আবুকেশেক জানিয়েছেন, গ্রেফতার ও বাধা সত্ত্বেও অভিযান চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং এখনো প্রায় ৩০টি জাহাজ গাজায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক পরিবেশ আন্দোলনের কর্মী গ্রেটা থুনবার্গকেও গ্রেফতার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েল বলছে, গাজাগামী এ নৌযানগুলো ‘আইনসম্মত নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছে।’ তবে আন্তর্জাতিক আইনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নিরাপত্তার জন্য ফ্লোটিলার পক্ষ থেকে যাত্রাপথ সরাসরি ভিডিও সম্প্রচারও করা হচ্ছে।
ফ্রিডম ফ্লোটিলা ফাউন্ডেশন, গ্লেবাল মুভমেন্ট টু গাজা, মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা এবং সুমুদ নুসানতারা—এই চার আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ঐক্যমঞ্চ গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। গত ৩১ আগস্ট স্পেনের বন্দর থেকে খাদ্য ও ওষুধে পূর্ণ ৪৩টি নৌযানের বহর নিয়ে গাজার উদ্দেশে রওনা দেয় গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। জাহাজগুলোতে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে আছেন ৪৪টি দেশের ৫০০ জন নাগরিক। এই নাগরিকদের কেউ পার্লামেন্টারিয়ান, কেউ আইনজীবী, কেউ রাজনৈতিক আন্দোলনকর্মী এবং কেউ বা স্বেচ্ছাসেবী।
বুধবার ভূমধ্যসাগরের গাজা উপকূলের কাছাকাছি চলে এসেছিল গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌবহর। সেদিন সন্ধ্যার পর গাজা উপকূল থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে থাকা অবস্থায় নৌবহরের চারপাশ ঘিরে ধরে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ এবং বহরের ১৩টি নৌযান আটক করে। আটক নৌযানগুলোর মধ্যে ৩টির নাম জানা গেছে— স্পেক্টার, অ্যালমা এবং সাইরাস।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
ফ্লোটিলার জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ইসরায়েলের