দালালের দৌরাত্ম্যে বিদ্যুতে ভোগান্তি
টাকা নিয়ে গেছে দালাল, মিটার নিলো বিদ্যুৎ অফিস!
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৮-০৯-২০২৫ ০২:৪৪:৫৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৮-০৯-২০২৫ ০২:৫২:৪৫ অপরাহ্ন
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কলারোয়া জোনাল অফিসে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। টাকা দিয়ে মিটার নিলেও পরে অফিসের লোকজন খুলে নেওয়ায় একাধিক পরিবার এখন অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছে।
জানা গেছে, কলারোয়ার বোয়ালিয়া গ্রামের সৌরভ কুমার সরকার দালাল মোস্তফার কাছে টাকা দিয়ে মিটার পান। কিন্তু কিছুদিন পর অফিসের কর্মীরা মিটার খুলে নিয়ে যায়। একইভাবে ভাদিয়ালীর প্রবাসী ইয়ার আলী বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে মিটার নিলেও তা খুলে নেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে তিনি স্ত্রীকে বাপের বাড়ি পাঠিয়েছেন। দেলোয়ার হোসেনও তাঁর বাকপ্রতিবন্ধী ভাইয়ের জন্য মিটার নিয়েছিলেন, সেটিও খুলে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স মিস্ত্রি মোস্তফা দীর্ঘদিন ধরে রাজপুর অভিযোগ কেন্দ্রের মাধ্যমে নানা অনিয়ম চালিয়ে আসছেন। গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া অর্ডার এডিট, মিটার বসানো ও কেটে দেওয়ার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।
তবে মোস্তফা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কি মিটার লাগাতে পারি? এটা আমাদের ক্ষমতার মধ্যে নেই। কীভাবে এসব মিটার বসানো হয়েছে আমি জানি না।”
পল্লী বিদ্যুতের কলারোয়া জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, অনলাইনে আবেদন ও বৈধ নথি ছাড়া তিনটি মিটার বসানো হয়েছিল। সার্চ করেও রেকর্ড না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সেগুলো খুলে আনা হয়েছে।
এ জি এম মো. আমিনুর মৃধা বলেন, “মোস্তফা অফিসিয়াল প্রক্রিয়া না মেনে কম্পিউটার দোকান থেকে অর্ডার এডিট করে মিটার সংযোগ দিয়েছিলেন। তদন্তে জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভুক্তভোগী গ্রাহককে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় মিটার দেওয়া হবে।”
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স