ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ , ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’, ৮০ হাজারে বিক্রি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২৭-০৯-২০২৫ ০৮:১১:০১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৭-০৯-২০২৫ ০৮:১১:৪৯ অপরাহ্ন
বঙ্গোপসাগরে ধরা পড়ল ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’, ৮০ হাজারে বিক্রি ​সংবাদচিত্র : ফোকাস বাংলা নিউজ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে আবারও ধরা পড়ল ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’  বা ‘কালো পোয়া’ নামে একটি সামুদ্রিক মাছ। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে মাছটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স জাবের ফিসে নিলাম ডাকে ৮০ হাজার টাকা বিক্রি হয়েছে।

৪ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছটি কেজি প্রায় ১৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এই প্রজাতির মাছ সচরাচর জেলেদের জালে ধরা পড়ে না। তাই  মাছটি দেখতে লোকজন  আড়তে ভিড় করেন। 

জানা গেছে, মাছটি আড়তে নিলাম ডাকে ‘ফ্রেশ ফিস কুয়াকাটা’র স্বত্বাধিকারী পি.এম মুসা কিনে নেন। তিনি মাছটি রপ্তানি করবেন বলেও জানিয়েছেন। এর আগে গত বুধবার সাড়ে ৪ কেজি ওজনের আরও একটি কালো পোয়া ৭২ হাজার টাকায় তিনি কিনেছিলেন।

স্থানীয় জেলেদের কাছে মাছটি ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ ও দাঁতিনা নামেও পরিচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে মাছটির বায়ুথলি বা এয়ার ব্লাডার চীনা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ ও প্রসাধনী তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়ায় এর দাম অনেক বেশি।

সমুদ্র প্রাণি বিশেষজ্ঞ ও পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন,  ‘কালো পোয়া বা কালো দাগ পোয়া ( Black Spotted Croaker) জাতীয় মাছকে সাগরের সোনা বলা হয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম  protonibea diacanthus ;  বাংলাদেশে এই মাছকে স্থানীয়ভাবে কালা পোমা/ পোয়া নামে ডাকা হয়। এরা ভারত মহাসগর, অষ্ট্রেলিয়া, প্রশান্তমহাসাগরীয় উপকুলীয় অঞ্চলের কাদামাটির সর্বোচ্চ ৬০ মিটার বা ১২০ ফিট গভীর এলাকায় পাওয়া যায়। এই মাছে বায়ু থলি ( Air Bladder) এর খুব উচ্চ মুল্য; এই বায়ু থলি দিয়ে বিভিন্ন মেডিসিনাল / ঔষাধি পন্য ( কসমেটিক সুতা, মেয়েদের প্রসাধনী ইত্যাদি) তৈরি হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পৃথিবীর দামীয় পানীয় / ওয়াইন " স্কস" এর মানদন্ড পরীক্ষায় এই বায়ু থলি ব্যবহার হয়ে থাকে।’

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা  অপু সাহা জানান, এ মাছকে ব্ল্যাক স্পটেড ক্রোকারও বলা হয়। সম্প্রতি ২টি মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এটি খুশির খবর। এর এয়ার ব্লাডার আন্তর্জাতিক বাজারে অনেক দামী, তাই মাছটির দামও বেশি। বাংলাদেশে সচরাচর ধরা পড়ে না, তবে সুন্দরবন এলাকায় কিছুটা পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ ২৫ কেজি ওজন পর্যন্ত আহরিত হয়েছে। সাম্প্রতিক ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার সুফলেই জেলেরা এখন বেশি মাছ পাচ্ছেন, এটি এখানকার জেলেদের জন্য শুভ খবর। 


বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এএ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ