এবার আর জিয়ার সমাধিতে ফুল দেওয়া হলো না ডা. সাবরিনার
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৭-০৯-২০২৫ ০৩:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৯-২০২৫ ০৩:৪৫:৫৪ অপরাহ্ন
ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতে এসে ছাত্রদলের তোপের মুখে পড়েন বিতর্কিত চিকিৎসক ডা. সাবরিনা। পরে ফুল না দিয়েই সমাধিস্থল ছেড়ে চলে যেতে হয় তাকে।
শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জিয়াউর রহমানে সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে নরসিংদী জেলা জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে ডা. সাবরিনাসহ বেশ কয়েকজন অপেক্ষা করছিলেন। এসময় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি আকরাম কয়েকজন নেতাকর্মী নিয়ে সেখানে আসেন।
এসময় ছাত্রদল নেতা আকরাম ডা. সাবরিনার পরিচয় জানতে চান। জবাবে সাবরিনা বলেন, আমি কেন্দ্রীয় কমিটির এক নম্বর সদস্য। এরপর ছাত্রদলের ওই নেতা বলেন, বিএনপি থেকে একটি প্রেস দেয়া হয়েছে। আপনার তো এখানে আসার কথা না। আপনি আওয়ামী লীগের সময় শেখ হাসিনাকে নিয়ে স্লোগান দিয়েছেন।
জবাবে সাবরিনা বলেন, শেখ হাসিনাকে নিয়ে আমি কখনো কোনো স্লোগান দেইনি। এসময় তিনি ছাত্রদল নেতাদের কাছে স্লোগান দেয়ার প্রমাণ চান তিনি। একপর্যায়ে আকরাম সাবরিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাকে এখান থেকে চলে যেতে হবে। এতে অসম্মতি জানিয়ে সাবরিনা বলেন, জিয়ার মাজার সবার।
এদিকে উপস্থিত কয়েকজন নেতাকর্মী সাবরিনাকে ঘিরে ‘আওয়ামী দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’ এমন স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় বেশ কিছুক্ষণ তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তবে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তার সেখান থেকে চলে যাওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন।
পরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তিনি প্রাইভেট কারে করে চলে যান।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ডা. সাবরিনা শ্রদ্ধা জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘করোনার সার্টিফিকেট জালিয়াতির মামলায় দণ্ডিত একজন বিতর্কিত ব্যক্তি কীভাবে শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে যান? তাকে যারা সেখানে নিয়ে গেছেন, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
উল্লেখ্য, ডা. সাবরিনা ২০২০ সালে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের রেজিস্ট্রার পদে কর্মরত থাকাকালে ‘জেকেজি হেলথ কেয়ার’ নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারপারসনের পরিচয়ে ভুয়া করোনা সনদ বিতরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
দুদকের তদন্ত অনুযায়ী, জেকেজি প্রায় ১৫ হাজারের বেশি ভুয়া করোনা রিপোর্ট তৈরি করে বিতরণ করে এবং প্রতারণার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশের অভিযোগও উঠে আসে।
এছাড়া ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে রয়েছে দুইটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) রাখার অভিযোগও। একটি এনআইডিতে তার জন্মতারিখ ১৯৭৮ সাল, অন্যটিতে ১৯৮৩ সাল দেখানো হয়েছে। ভিন্ন দুই এনআইডিতে স্বামীর নামও ভিন্ন একটিতে আর এইচ হক, অন্যটিতে আরিফুল চৌধুরী।
২০২০ সালে এসব অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে ডা. সাবরিনা বিএনপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করলেও তার অতীত কর্মকাণ্ড ও পরিচিতি ঘিরে সংগঠনের ভেতরে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, তার বিরুদ্ধে থাকা নানা দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার রাজনৈতিক উপস্থিতিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না। শনিবারের ঘটনাও সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এএ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স