বগুড়া, রংপুর ও সুনামগঞ্জে ৯জনসহ সড়কে ১১ জনের মৃত্যু
সড়ক কেড়ে নিলো ১১ প্রাণ
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
২৬-০৯-২০২৫ ০৭:৩৫:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৬-০৯-২০২৫ ০৭:৪৬:০৫ অপরাহ্ন
সংবাদচিত্র: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনেই প্রাণ হারাল অন্তত ১১ জন। বগুড়ার সারিয়াকান্দি, রংপুরের দমদমা ব্রিজ ও সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মা-ছেলেসহ নিহত হয়েছেন ৯ জন। এছাড়া শেরপুরে ট্রলির চাপায় এক নারী এবং টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আরও অন্তত অর্ধডজন মানুষ আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত-
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান- বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন মা ও মেয়ে। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সারিয়াকান্দি উপজেলার ফুলবাড়ি কাঠালতলা এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কুঠিবাড়ি গ্রামের বিপুল চন্দ্র দাস (৩৮), তার ছেলে বিপ্লব চন্দ্র দাস (৫) এবং অটোরিকশা চালক শিবগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের শুকুর আলী (৪০)। আহত হয়েছেন বিপুলের স্ত্রী মমতা রানী ও মেয়ে রুপা মনি দাস। সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিরুল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজার ছুটিতে বিপুল পরিবার নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। ভোরে ঢাকা থেকে বগুড়া এসে সিএনজি অটোরিকশায় করে নারচী গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চালক শুকুর আলী মারা গেছেন জানিয়ে জামিরুল ইসলাম আরও বলেন, পরে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৯টার দিকে বিপুল চন্দ্র দাস ও তার ছেলে বিপ্লব চন্দ্র দাসের মৃত্যু হয়। আহত মমতা রানী ও রুপা মনি দাস বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রংপুর ব্যুরো জানায়- রংপুরের দমদমা ব্রিজের কাছে পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে বালু বোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাজহাট থানার ওসি শাহজাহান আলী। নিহতরা হলেন- পিকআপ ভ্যানের সহকারী নগর মীরগঞ্জের ইউসুফ আলীর ছেলে আরিফ হোসেন (২০), যাত্রী পীরগাছার সাতদরগা এলাকার মোতালেব হোসেনের স্ত্রী শাহিনা বেগম (২৮) ও তার এক বছর বয়সী ছেলে ওয়ালিদ হোসেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দু’টি জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, নগরীর দমদমা ব্রিজের উত্তরে মহাসড়কের ওপর একটি মালবাহী পিকআপ মাহিগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অভিমুখে এসে ইউটার্ন নেওয়ার সময় বালুর ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এ কারনে ঘটনাস্থলে পিকআপের পিকআপের হেলপার আরিফ (২০), পীরগাছা উপজেলার মোতালেব হোসেনের স্ত্রী শাহিনা (২৮) ও একই উপজেলার সাতদরগার মোতালেব হোসেনের ছেলে ওয়ালিদ নিহত হন। পিকআপের চালককে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান- সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে একটি পিকআপভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক স্কুলছাত্রীসহ ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার পাগলা বাজার এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, সিএনজি চালক হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জের জলসুখা গ্রামের সজল ঘোষ (৪০), একই জেলার বানিয়াচং উপজেলার নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা আঁখি রানী চৌধুরী (৩৬) ও তার মেয়ে প্রথমা চৌধুরী। প্রথমা চৌধুরী সুনামগঞ্জ শহরের সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। তারা শহরে উকিলপাড়া এলাকায় বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুত গতিতে আসা একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ট্রাক চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। ওই ট্রাক চালকের নাম পারভেজ আহমেদ (৩৫) বলে জানা গেছে। তিনি জেলার দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে। শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ। দুর্ঘটনায় সিএনজি চালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
শেরপুর প্রতিনিধি জানান- শেরপুরের নকলায় ট্রলিচাপায় নিরালা (৩৫) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী পথচারী নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার উপজেলার পোস্ট অফিস সংলগ্ন মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিরালা জামালপুর সদর উপজেলার বড় ডৌহাতলা গ্রামের বাদশার মেয়ে। তিনি নকলা উপজেলার নারায়খোলা ইউনিয়নে নানা বাড়িতে থাকতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ১০টায় নকলা উপজেলার পোস্ট অফিস সংলগ্ন মহাসড়কে ট্রলির চাপায় গুরুতর আহত হন নিরালা। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাইমা ইসলাম পিংকি তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে নেওয়ার পর বিকেল ৫টায় তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, নিরালার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান- টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বাসের ধাক্কায় অনিক (২০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আবীর (১৫) নামে মোটরসাইকেলটির অপর আরোহী। গত বৃহস্পতিবার পৌরসভার চাটিপাড়া সেতু সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। নিহত অনিক টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ছোট বিন্যাফৈর গ্রামের নিশানের ছেলে। আহত আবীরের বাড়িও একই এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালিহাতী পেট্রোল পাম্প থেকে তেল নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে সিলিমপুর যাচ্ছিলেন অনিক ও আবীর। চাটিপাড়া সেতু এলাকায় পৌঁছলে পেছন থেকে আসা একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। সড়কে ছিটকে পড়লে বাসের চাকায় পিষ্ট হন অনিক। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের এসআই মাহবুব হোসেন জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার এবং মোটরসাইকেলটি থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স